সবচেয়ে বিস্তৃত অংশে ১ হাজার কিলোমিটার (৬২০ মাইল) জুড়ে বিস্তৃত টাইফুন বাভি প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে তাইওয়ানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ব্যাস মোটামুটি ফ্রান্সের প্রশস্ততার সমান। তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এবং জাপানের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোতে ভারী বৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার এটি দক্ষিণ-পূর্ব চীনে আছড়ে পড়বে।
এই অঞ্চলে কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। টাইফুনের আগে বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিস মজুত করে ফেলায় সুপারমার্কেটের তাকগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে রাতভর ভূমিধসে বেশ কয়েকটি পরিবার চাপা পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সপ্তাহজুড়ে দেশটির বিভিন্ন অংশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছে যে বাভির কারণে ১ মিটার (৩৯ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। দ্বীপটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রয়টার্সকে জানিয়েছে, ১৯৮৭ সালের পর থেকে আকারের দিক থেকে বাভি হতে যাচ্ছে দ্বীপটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় ঝড়।
শুক্রবার আগে যখন আবহাওয়া ভালো ছিল, তখন এই অঞ্চলজুড়ে কৃষকরা ফসল কাটতে বা রক্ষা করতে ছুটতে থাকেন। জেলেরাও তাদের নৌযানগুলো নিরাপদে বেঁধে রাখেন। ৬০ বছর বয়সী জেলে চেন মিং-হুই রয়টার্সকে বলেন, ‘এখন সুন্দর ও শান্ত আবহাওয়া দেখে বোকা হবেন না। এই ধরনের ঝড় সবচেয়ে ভয়ানক হতে পারে।’ বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দা ও দোকানদারদের কাছে হাজার হাজার বালুর বস্তা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রণালির অপর পাশে দক্ষিণ-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে আছড়ে পড়ার পর টাইফুনটি উত্তর দিকে সরে যেতে পারে বলে চীন সতর্ক করে দিয়েছে। দেশটি ‘উল্লেখযোগ্য প্রভাব’ পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে। চীনের ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক মা জুন বলেছেন, ‘বাভির বিশাল আকার এবং প্রচুর শক্তির অর্থ হচ্ছে এর অবশিষ্ট অংশ ও বাইরের বৃষ্টিবহনকারী ব্যান্ডগুলো জিয়াংসু ও আনহুই প্রদেশ থেকে বোহাই সাগর অঞ্চলের দিকে সরে যেতে পারে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর টাইফুন মোকাবিলার ‘‘অভিজ্ঞতা কম’’। এসব অঞ্চলে ‘প্রস্তুতি জোরদার করা উচিত।’ কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাভি চীনে দুবার আছড়ে পড়তে পারে। জাপানের প্রত্যন্ত সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। অনলাইনে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, তাদের কেউ কেউ জানালায় টেপ লাগাচ্ছেন এবং বাড়িঘর ও দোকানের চারপাশে বাতাসপ্রতিরোধী জাল টানিয়ে দিচ্ছেন।
এই অঞ্চলে বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করেছে। উদাহরণ হিসেবে জাপান এয়ারলাইনস শুক্র ও শনিবারের ১০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যাতে প্রায় ২০ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আরেকটি বিমান সংস্থা অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ রোববার পর্যন্ত ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতেও প্রায় ২০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। থাই এয়ারওয়েজ ও মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসও তাইপে থেকে ছেড়ে যাওয়া ও আসার ফ্লাইট বাতিল করেছে।
দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন এলাকা এখনো চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা টাইফুন মেসাকের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। মেসাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জন নিহত হন। উদ্ধারকর্মীরা এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রধানত গুয়াংসি অঞ্চলে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মেসাকের কারণে বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু নিহত হয় এবং কৃষিতে বিশাল ক্ষতি হয়। মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে দুটি বিরল টর্নেডোরও সৃষ্টি করে ঝড়টি।





