মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ লিখেছেন, গত ২৪ জুন পরপর দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ৪ হাজার ১১৮ জন নিহত ও ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন। এসব ভূমিকম্পে উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার পুরো এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এছাড়া আরও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের ৩৯ সেকেন্ড পরই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। এতে বহুতল আবাসিক ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে।
উদ্ধারকারী দল বেঁচে থাকাদের জন্য অনুসন্ধান বন্ধ করে দিয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের সম্মানজনক দাফনের আশায় এখনো ধ্বংসস্তূপে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
গতকাল (শুক্রবার, ১০ জুলাই) কেন্দ্রীয় কারাকাসে ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে সাময়িক আতঙ্ক ছড়ায় এবং বেশ কয়েকটি ভবন থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রীয় সেবা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়া ভেনেজুয়েলার সামনে এখন বিশাল পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ। বুধবার জাতিসংঘ ভূমিকম্প ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৩০ কোটি ডলারের জরুরি আবেদন জানিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ১৩ লাখ মানুষের এই সহায়তা প্রয়োজন।
সম্প্রতি পর্যন্ত এখানে বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারি দমন-পীড়নের শিকার ছিল। ধ্বংসযজ্ঞের বেশির ভাগ ঘটে যাওয়া উত্তরের রাজ্য লা গুয়াইরার বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এখন ভ্রাম্যমাণ রান্নাঘর, ক্লিনিক ও ফিল্ড হাসপাতাল বসানো হয়েছে। জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস অফিস আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ভৌত ক্ষতি প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার হবে বলে অনুমান করেছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ পুনর্গঠন কাজে ব্যবহারের জন্য বিদেশে অবরুদ্ধ থাকা সম্পদ ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার অধীনে অবরুদ্ধ ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩০ টন স্বর্ণ ছেড়ে দিতে তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসকে অনুরোধ করেছেন।
দেলসি রদ্রিগেজ জোড়া ভূমিকম্পে দেশের জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থার পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন, দেশটি সামাজিক অস্থিরতায় পড়বে না। আন্তর্জাতিক দলগুলো পৌঁছানোর আগে দুর্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারের অপর্যাপ্ত সাড়াদান নিয়ে অনেক ভেনেজুয়েলান নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।





