ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ ও ৬ জুলাই রাতে রাশিয়া ২৩টি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি উচ্চগতির জিরকন ও অনিক্স ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে ইউক্রেন এর একটি ক্ষেপণাস্ত্রও আটকাতে পারেনি। এর আগে রাশিয়ার এ ধরনের বড় হামলায় সাধারণত এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারতো ইউক্রেন।
ইউক্রেনের এই দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মিত্র দেশগুলোর কাছেও এ ধরনের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অফুরন্ত নয়। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভসহ বড় শহরগুলোকে রক্ষা করতে বারবার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।
রাশিয়া সাধারণত শত শত ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মিলিয়ে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। ইউক্রেন ড্রোন ও ধীরগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে দক্ষ হয়ে উঠলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইস্কান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্র ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে মাত্র কয়েক মিনিটে আঘাত হানতে পারে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কাজ করার জন্য খুব সামান্য সময় দেয়।
ব্লুমবার্গের তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, ইউক্রেন যখনই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন সরবরাহ পায়, তখনই তাদের সাফল্য বাড়ে। কিন্তু গত তিন মাসে রাশিয়া তাদের হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়ায় এবং ইউক্রেনের মজুত কমে আসায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিয়েভে রুশ হামলায় অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন, যার বড় অংশের জন্য দায়ী এই ইস্কান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্র।





