গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু | ছবি: সংগৃহীত
0

গাজা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহু সাফ জানান, হামাস সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্র না হলে গাজা থেকে কোনো ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। যদিও ট্রাম্পের দাবি, হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে। হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, দশ দিন আগে কায়রো বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী ও শান্তি পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ১৫ দফার রোডম্যাপ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে তারা।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে তীব্র বিরোধিতা এবং গাজায় আইডিএফের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার তাগিদেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধোত্তর গাজা পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিমত করে এসেছেন।

এবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫-দফা পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, হামাস নিরস্ত্র না হলে গাজা থেকে কোনো ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমি বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাই, ইসরাইল ১৫-দফা ১৫-দফা পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করছে। অনেককে বলতে শুনেছি, আমি তো এমনটা বলিনি।' তাই আমি আবারও বলছি হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে আইডিএফ কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না।

ট্রাম্পের নিশ্চয়তার পাশাপাশি হামাসের তরফ থেকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হলেও, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ১৫ দফা পরিকল্পনার কিছু ধারণা গ্রহণযোগ্য হলেও অনেক শর্ত ইসরাইলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

তবে হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, দশ দিন আগে কায়রো বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী ও শান্তি পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ১৫ দফার রোডম্যাপ ও আলোচনা ঐকমত্যে পৌঁছেছে তারা।

গত মাসে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুদ্ধ বন্ধে তার পরিকল্পনায় বড় অগ্রগতি এসেছে। ইসরাইল ও হামাস গত বছর ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় সম্মত হয়। শুরু হয় যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নও। যদিও এরমধ্যেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছে, ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ও মিত্ররা এই শান্তি চুক্তি মেনে না নেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

গাজার ১৫-দফা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরাইল, হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো উপত্যকায় সব সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। এরপর ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা সেখানে দায়িত্ব বুঝে নেবে।

প্রতিশ্রুতিগুলো সঠিকভাবে পালিত হয়েছে কি না তা যাচাইয়ের কাজ করবে ইন্টারন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থাকবে। এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন, এক অস্ত্র—এই নীতির ওপর শাসিত হবে গাজা। ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা ফিলিস্তিনি আইন ও প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ইএ