পর্তুগাল ও গ্রিসে দাবানল নেভাতে রোববার হাজার হাজার দমকলকর্মী প্রাণপণ লড়াই চালিয়েছেন। তিন দিনের বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকা বিশাল এই দাবানল নেভাতে পর্তুগালকে সহায়তা করতে স্পেন ও ইতালি অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়েছে। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গ্রিসের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর থেসালোনিকির উপকণ্ঠে একটি রিসাইক্লিং কারখানা দাবানলে পুড়ে যাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে রোববার সেখানকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে এবং দরজা-জানালা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মধ্য পর্তুগালের ভোউজেলা এলাকায় বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দাবানল নেভাতে ১ হাজার ২০০-এর বেশি দমকলকর্মী কাজ করছেন। পর্তুগালের নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তাদের সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৪০০ যান ও ১৫টি বিমান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ম্যাপিং সংস্থার তথ্য বলছে, রোববার নাগাদ এই দাবানল ১২ হাজার হেক্টর বা ১২০ বর্গকিলোমিটার (৪৬ বর্গমাইল) এলাকা গ্রাস করেছে।
ইইউর নাগরিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা বিভাগ জানিয়েছে, স্পেন শুক্রবার পর্তুগালকে সহায়তা হিসেবে ১২০ জন দমকলকর্মী ও ৪৫টি যান পাঠিয়েছে। ইতালি ও স্পেন থেকে তিনটি অগ্নিনির্বাপক বিমানও পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ ইউরোপের অন্যপ্রান্তে গ্রিসের থেসালোনিকির ওরাইওকাস্ট্রো উপশহরের কাছে শনিবার সন্ধ্যায় একটি রিসাইক্লিং কারখানায় দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে দাবানল। এতে তিনটি উপশহর এবং ১৫৭ জন প্রতিবন্ধী মানুষের একটি প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেয়ার সতর্কতা জারি করা হয়।
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, প্রবল বাতাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ১৬০ জন দমকলকর্মী সারা রাত কাজ করেন। ভোর হওয়ার পর আকাশ থেকে পানি ছিটানো বিমান কাজ শুরু করে। ওরাইওকাস্ট্রোর মেয়র পান্দেলিস সাকিরিস গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটিকে জানান, আগুনে বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ৭৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অবহেলাজনিত কারণে এই আগুন লাগানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার গাড়ি থেকে বেরোনো স্ফুলিঙ্গে সড়কের পাশের গাছপালায় আগুন ধরে যায়। রোববার তাকে প্রসিকিউটরের সামনে হাজির করার কথা ছিল। এর কয়েক দিন আগেই কাছের একটি এলাকায় দাবানলে ১২ বছর বয়সী এক বালক ও তার বাবা প্রাণ হারিয়েছিলেন।
দমকল বিভাগের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ইওয়ানিস আরতোপিওস রোববার ইআরটি টেলিভিশনকে জানান, গ্রিসের প্রায় ৮৫ শতাংশ দাবানলের কারণ অবহেলা। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ, ফেলে দেয়া সিগারেট এবং বাইরে বারবিকিউ ব্যবহার। তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো, এসবের বেশিরভাগই এড়ানো যেত।’
উষ্ণ ও শুষ্ক গ্রীষ্মে গ্রিসে প্রায়ই ধ্বংসাত্মক দাবানল হয়। ২০১৮ সালে এথেন্সের পূর্বাঞ্চলে এক দাবানলে ১০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ২০২৩ সালে উত্তর-পূর্ব গ্রিসের একটি প্রত্যন্ত প্রকৃতি সংরক্ষণাগারে ছড়িয়ে পড়া দাবানল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবানল হিসেবে রেকর্ড হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটি প্রযুক্তির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে। মে মাসে নিম্ন কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা চারটি স্যাটেলাইটকে দাবানল পর্যবেক্ষণের কাজে যুক্ত করছে গ্রিস।
চলতি গ্রীষ্মে পশ্চিম ইউরোপের অনেক অঞ্চলে যে তাপপ্রবাহ চলেছে, তা থেকে গ্রিস কিছুটা রেহাই পেলেও দেশটির মূল ভূখণ্ড ও দ্বীপগুলোয় অসংখ্য দাবানলের ঘটনা ঘটেছে।





