বিস্ফোরণ হওয়া ট্যাংকারটির নাম, মালিকানা, পতাকা, কার্গো বা গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যমটি। এমনকি এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা-ও জানা যায়নি। সংবাদটি লেখার সময় পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রধান পথ। সরু এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে তা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, তেহরান-অনুমোদিত নৌপথ ছেড়ে যাওয়ার কারণেই ট্যাংকারটি মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হয়েছে। তেহরান আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, অনুমোদিত পথ ছাড়লে জাহাজগুলোকে এর ফল ভোগ করতে হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে বেশ কয়েকটি হামলার পর এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরান কার্যকরভাবে এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নৌ অভিযান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং সামুদ্রিক মাইনের চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এই বিস্ফোরণের এক দিন আগেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, তারা হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে ‘অবৈধ ও অনিরাপদ পথ’ ব্যবহার করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ আটকে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে জাহাজগুলোকে গতিপথ বদলাতে বাধ্য করা হয়। তবে জাহাজগুলোর পরিচয় বা জাতীয়তা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে চলতে উসকানি দিচ্ছে।
সিবিএস নিউজ আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আলোচনার জন্য ওমানের কর্মকর্তারা গত শুক্রবার তেহরান সফর করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে, তবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে আরও সময়ের প্রয়োজন বলে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলা সাময়িক স্থগিত থাকার সময়ই এই আলোচনা চলছে। রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ১৩ রাতের টানা গোলাবর্ষণের পর যে বিরতি দিয়েছে, তা বজায় রাখলে তেহরানও তাদের হামলা বন্ধ রাখবে। মার্কিন হামলা স্থগিত হওয়ার পর ইরানও তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়া সব সময়ই প্রতিশোধের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা স্থগিত করায় তারাও অভিযান বন্ধ রেখেছে।
হোয়াইট হাউসও ইঙ্গিত দিয়েছে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই এই বিরতি দেয়া হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্প সব সময়ই কূটনৈতিক সমাধান চেয়েছেন, তবে ইরান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা না করলে তার পরিণতি কেমন হতে পারে, তা-ও তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে ওয়াশিংটন আরও ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালাতে পারে।





