ইউরোপের পর এবার তীব্র দাবদাহের কবলে যুক্তরাষ্ট্র। বিপাকে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি। ভোগান্তিতে অন্তত ৩০টি অঙ্গরাজের বাসিন্দারা।
গেল কয়েকদিন ধরেই তীব্র তাপপ্রবাহে 'হিট ডোমে' নাজেহাল নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ইলিনয়, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া, মিসৌরিসহ অন্তত ৩০টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহরে হিট ইমারজেন্সি জারি করা হয়েছে। এসব শহরে তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে।
তীব্র দাবদাহের কারণে আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে আয়োজিত বেশকিছু অনুষ্ঠান পরিবর্তন, সংক্ষিপ্ত বা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে শহর-কর্তৃপক্ষ। এরকম পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের পর্যটক ও নগরবাসীর জন্য শত শত কুলিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়া এবং বোস্টনের মতো চরম পরিস্থিতি চলা শহরগুলোতে প্যারেড, র্যালি এবং আতশবাজি বাতিল করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, আমি এখানে দুই কেস বরফ-ঠাণ্ডা পানি রেখেছি। যাদের প্রয়োজন তারা বিনামূল্যে নিতে পারবে। আজ ও কাল খুব গরম থাকবে। গরম, গরম। নরকের চেয়েও গরম। দুপুরের সূর্যের চেয়েও গরম। বন্ধুরা, টাইমস স্কয়ার থেকে সরাসরি জানাচ্ছি, এখানে নরকের চেয়েও গরম।
ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া, ন্যাশভিল এবং সেন্ট লুইসে প্রবীণ ও গৃহহীনদের জন্য বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কুলিং সেন্টার খোলা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খুব গরম পড়েছে। আমরা প্রায়ই ছুটি কাটাতে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যাই। কিন্তু এই গরমটা অন্যরকম। আর্দ্রতাও বেশি। আমরা মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছি।
এদিকে, ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে ইউরোপেও। আগামী সপ্তাহগুলোতে ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। যা এ অঞ্চলের দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলের জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এসব অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাইকেল কে. ডরসি বলেন, ইউরোপের প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯০ শতাংশ। তাপপ্রবাহের ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় ইউরোপ প্রস্তুত নয়। শুধু গেল চার বছরেই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে দুই লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আরও লাখ লাখ মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী সপ্তাহে আবারও তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অনুমান, অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে দেশটিতে এরইমধ্যে অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়াও স্পেন সীমান্তের কাছে ফ্রান্সের বন্দর নগরী মার্সেইয়ের অন্তত এক হাজার দুই'শ দশ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে ভয়াবহ দাবানলে। প্রবল বাতাস এবং তীব্র কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ছেয়ে গেছে। কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও দমকলকর্মীরা সেখান থেকে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে, পোল্যান্ডে কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে সূর্যের তাপ এড়িয়ে ঘরে থাকতে, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার আহ্বান জানিয়েছে। অসহনীয় তাপ থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে বিভিন্ন শহরে পানির ফোয়ারা স্থাপন করা হয়েছে।





