যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আইআরজিসি প্রধান

আইআরজিসি প্রধান আহমদ ওয়াহিদি
আইআরজিসি প্রধান আহমদ ওয়াহিদি | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল আহমদ ওয়াহিদি দীর্ঘ চার মাস আত্মগোপনে থাকার পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এসেছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আজ (শুক্রবার, ৩ জুলাই) তেহরানে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাকে দেখা গেল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনে খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় ওয়াহিদি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, ওয়াহিদি তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিনে হাত রেখে প্রার্থনা করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে খামেনির সাবেক বাসভবনের কাছে আয়োজিত একটি শোকানুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের কঠোর অবস্থান নির্ধারণে ওয়াহিদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ একটি দলের সদস্য। বাবার মৃত্যুর দিন হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মুজতবা খামেনিও আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ৮৬ বছর বয়সি খামেনির কফিনের ওপর ‘ইয়া হুসাইন’ লেখা ও কারবালার ইমাম হুসাইনের মাজার থেকে আনা একটি লাল পতাকা ঢাকা রয়েছে। শিয়া ঐতিহ্যে এটি অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তির রক্তের প্রতীক এবং প্রতিশোধের আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হয়। কফিনের সামনে রাখা ছিল লাল টিউলিপ ফুল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে দেখা যায়, শোকাহত মানুষ কফিনের দিকে নিজেদের ওড়না ও অন্যান্য সামগ্রী ছুড়ে দিচ্ছেন, যা স্থানীয় এক প্রচলিত ধর্মীয় রীতি। দীর্ঘ সময় পর আহমদ ওয়াহিদির এই জনসমক্ষে আসা তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক স্থিতিশীলতার একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খামেনির কফিন কাঁধে করে নিয়ে যান। ধর্মীয় নেতারা খামেনির পাশাপাশি ওই হামলায় নিহত তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে ১৪ মাস বয়সি নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির কফিনের পাশ দিয়েও হেঁটে যান। শনিবার থেকে খামেনির কয়েক দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক জানাজা শুরু হবে। এরপর তার মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহর এবং প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোতে নেয়া হবে। এই বিশাল আয়োজনকে কেন্দ্র করে তেহরানের সড়ক ও আকাশপথে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

এএম