ইবোলা মোকাবিলায় কঙ্গোতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ; ভিন্নমত দমনের অভিযোগ

ইবোলা আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা
ইবোলা আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা | ছবি: আসোসিয়েট প্রেস
0

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ভয়াবহ ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে রাজধানী কিনশাসাসহ সংক্রমণের বাইরে থাকা বেশ কিছু এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। আসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় তিন প্রদেশে ইবোলার একটি বিশেষ ধরন ছড়িয়ে পড়েছে, যার কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা নেই। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৩৭৭ জন। কঙ্গোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিনশাসা, শোপো, ওত-উয়েলে ও বাস-উয়েলে প্রদেশে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। যদিও এসব প্রদেশে এখনো কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এছাড়া রুয়ান্ডা সমর্থিত এম-২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটির বড় শহর গোমাতেও সব ধরনের জমায়েত ও ক্রীড়া উদযাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিরোধীরা এই নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন। বিরোধী জোট ‘লামুকা’-র মুখপাত্র প্রিন্স ইপেঙ্গে অভিযোগ করেছেন, আগামী মাসে প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেডির সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সংবিধান পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি বড় বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। সেই বিক্ষোভ পণ্ড করতেই ইবোলার দোহাই দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট শিসেকেডি সোমবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইবোলা মোকাবিলায় ৩১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের একটি জরুরি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইবোলা কোনো গুজব বা লজ্জার বিষয় নয়, এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি যা দায়িত্বশীলতা ও সংহতি দাবি করে।’ তবে তিনি সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

জাতিসংঘ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে যে, এই ভাইরাস যদি রুয়ান্ডা বা অ্যাঙ্গোলার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, তবে আফ্রিকার অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষ কর্মহীন হতে পারে। উগান্ডাতেও ইতিমধ্যে ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহীদের সংঘাত ও হামলার কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এএম