চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আগে বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অন্তর্ভুক্ত ছিল। কারণ এই জলপথটি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে যায় আকস্মিকভাবে। ইরান বলছে, ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী সময়ে হরমুজে জাহাজ চলাচলে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এমনকি তাদের অনুমতি ছাড়া কেউ এই নৌপথ ব্যবহার করতে পারবে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছে।
শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জেরে তেহরানে পাল্টা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেস্তে যেতে বসেছে। এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে তারা ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। এর প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল ইরানকে। তবে তা লঙ্ঘন করেছে তারা। তাই হরমুজ প্রণালির সুরক্ষায় ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, আইআরজিসি হুঁশিয়ারি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাহলে, ইরানের জবাব আগের চেয়েও কঠোর হবে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, শত্রুর যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরান।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণকে নিষ্ঠুর হামলা উল্লেখ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাব। আর ট্রাম্প বলছে, তেহরান কখনোই শিক্ষা নেবে না। সামরিক উপায়েই তাদের দমন করতে হবে।
বেশ কিছুদিন ধরেই ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ কমে এসেছে। তবে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি কখনোই যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরবে না।





