যুদ্ধ বন্ধের নানান কূটনৈতিক তৎপরতা, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও গাজা উপত্যকার শিশুদের ভাগ্য বদলায়নি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার শিশু, আহত অসংখ্য। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ অগণিত শিশু।
কমিশনার ক্রিস সিডোটি বলেন, সেদিন ১৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর বাড়ি থেকে বের হয়ে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আহত হয়। তখন সেখানে কোনো সংঘাত চলছিল না। শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে ছিল। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে একদল ইসরাইলি সেনা তাকে ঘিরে রেখে গল্প করছিল। সম্ভবত তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধূমপানও করছিল। আর এই সময় শিশুটি রক্তক্ষরণে মারা যায়।এমনকি শিশুটির মা বিষয়টি দেখে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তাকেও ইসরাইলি সেনারা গুলি করে।
পাশাপাশি তীব্র অপুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং রোগের কারণে শিশুদের জীবনযাত্রা যেন এক অন্তহীন দুর্ভোগের নাম। তবে এতকিছুর পরও এখানকার শিশুরা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সপ্তাহেই শুরু হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা। গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইনে এই পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
যুদ্ধ শুরু পর এই প্রথম গাজার শিশুরা এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিতে বসলো। সবাই ভালো ফলাফলের জন্য মরিয়া। এই পরীক্ষাগুলোই হয়তো তাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কী বিষয় নিয়ে পড়বে তা এখনো অনিশ্চিত। অনেকেই মেডিসিন, ফিন্যান্স এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মধ্যে কোন একটি বিষয়ে পড়তে চায়। ভালো ফল করতে বিদেশে একটি বৃত্তি নিশ্চিত হতে পারে। তাদের আশা, এতে করে গাজার কষ্টকর জীবনে থেকে বেরিয়ে একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়া যাবে।
এ জন্যই প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে, ঘণ্টাখানেক হেঁটে তাদের পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ক্যাফেতে পৌঁছে যায় শিক্ষার্থীরা। হাতেগোনা কয়েকটি ক্যাফেতে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়া যায়। তার মধ্যেও যেখানে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে সেখানে বসতে হয়।
আবার সব বিষয় পড়ানোর শিক্ষক নেই। কিছু বিষয় নিজেই শিখতে হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থা ও সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় পরীক্ষা দেয়াটাও উদ্বেগ ও মানসিক চাপের বিষয় হয়ে উঠেছে।
এছাড়া গাজার মতোই পশ্চিম তীরের ছাত্রছাত্রীরাও এ বছর পরীক্ষা দিচ্ছে। তবে তারা স্কুল ও পরীক্ষা হলে গিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
আল জাজিরার তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর গাজার শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত অচল। এতে শিক্ষা অবকাঠামোর প্রায় ৯৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়। জাতিসঙ্ঘের মতে, এই অঞ্চলের প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে।





