জরুরি প্রয়োজনের বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলান এই নারী। ফিরে এসে দেখতে পেলেন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে স্বামী-সন্তান।
এভাবেই ভেনেজুয়েলায় বৃহস্পতিবারের শক্তিশালী ৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। কয়েক মিনিটেই ধুলিসাৎ হয়েছে হাজারো স্বপ্ন। পাখির চোখে কারাকাসের পশ্চিমের লা গুয়াইরাহ শহরের চিত্র তারই প্রমাণ। কোথাও বহুতল ভবন মিশে আছে মাটির সঙ্গ। কোথাও-বা কঙ্কালসার ইট-পাথর ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।
তবে এর মধ্যেও কিছু ভাগ্যবান রয়েছে যাদেরকে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ার ২৪ ঘণ্টার পরেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ীদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতায় শিউরে উঠছেন অনেকে।
হাতেগোনা কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বহু মানুষ। তাই আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রুদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে যারা আটকে আছে তাদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করছি অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। নিহতের স্বজনদের পাশে রয়েছে সরকার।
ধ্বংস হওয়া হাসপাতাল ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ২শ' মিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে ব্যবসায়ীদের ঋণ সুবিধা দেয়ার কথাও জানান।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এরইমধ্যে ভেনেজুয়েলার দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ১৫ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়াও মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এয়ারক্রাফট ও ট্রান্সপোর্ট শিপ পাঠানোর কথাও বলেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। সেখান থেকে তেল আসছে এবং তাদের সাথে আমাদের সম্পর্কও চমৎকার। ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নাজুক। তাদের সহায়তা পাশে দাঁড়াব।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও মেক্সিকো, চিলি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর ও পানামা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য।





