বছরের ২৬তম টাইফুনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের পূর্বাঞ্চল। সেকেন্ডে ৫০ মিটার পর্যন্ত ঝড়ো বাতাসের আঘাতে ইউহুয়ান শহরে ভেঙে পড়ে নয়শোর বেশি গাছ। তীব্র বৃষ্টি চলছে আনহুই, জিয়াংসু ও শ্যানডং প্রদেশে। বন্যাকবলিত বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
চীনের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, গতি হারিয়ে দুর্বল হলেও চীনে বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় টাইফুন ডলফিন। মধ্যাঞ্চলে এগিয়ে যেতে থাকায় এরই মধ্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে হুবেই প্রদেশ। ২৪ ঘণ্টায় আড়াইশো মিলিমিটার বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, ইয়াঙৎজি নদীতে বিশাল থ্রি গর্জেস বাঁধসহ বন্ধ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি মহাসড়ক ও পানিপথের নির্মাণাধীন প্রকল্প। টাইফুনের প্রভাবে বছরের এক-তৃতীয়াংশ বৃষ্টি একদিনেই হওয়ার আভাস বেইজিংয়ে। তলিয়ে গেছে সাংহাই, বন্ধ সব ফেরি ও মেট্রো পরিষেবা, উড্ডয়নের ঝুঁকি নিচ্ছে না ৪০ শতাংশ ফ্লাইট।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘গত রাতজুড়ে বৃষ্টি হয়েছে। আজ সকালে ঘুম ভেঙে দেখি যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি জমে আছে। ১০ বছর ধরে সাংহাইতে আছি। এতো অসুবিধায় আর পরিনি। এমন বন্যাও দেখিনি।’
আমাকে অফিসে যাওয়ার জন্য একটা ট্যাক্সি ডাকতে হবে। আমি মেট্রোর বিজ্ঞপ্তি আমলে নেইনি। কিন্তু এখন আর কোনো উপায় নেই, তাই অফিসে যাওয়ার জন্য একটা ট্যাক্সি ডাকছি।
অন্যদিকে, দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি ঝড়ো বাতাসের প্রভাবে অতিবৃষ্টি চলছে ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলা ও আশপাশের এলাকায়। ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে উত্তরের বাগুইয়ো এলাকায়, নিখোঁজ অনেকে। বন্যায় কাবু নগরাঞ্চল।
ম্যানিলার বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘টাইফুন হোক বা নিম্নচাপ, সান মাতেও আর মারিকিনা নদীর কাছাকাছি বলে এখানে বন্যা হয়। সব পানি এখানে এসে জমে। অনেক ক্ষতি হয় আমাদের। এবার তিনদিন ধরে কোনো আয় নেই। তার ওপর গত রাতে সব পানিতে ভেসে গেছে।’
ফিলিপিন্সের জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার তথ্য, পরপর কয়েকটি ঝড়ের প্রভাবে গেলো এক সপ্তাহে দেশটিতে ক্ষতির মুখে এক লাখের বেশি মানুষ।




