ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে কিয়েভের সঙ্গে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে চায় রাশিয়া। উচ্চপদস্থ রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ইস্তাম্বুল শান্তি আলোচনার ভিত্তিতে ইউক্রেনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায় রাশিয়া।
পুতিন বলেন, এই আলোচনা ২০২২ সালে ইস্তাম্বুলে এবং ২০২৫ সালে আঙ্কারাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পৌঁছানো চুক্তির ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘এ কথা আগেও বলা হয়েছে। রাশিয়া ২০২২ সালের ইস্তাম্বুল শান্তি আলোচনার ভিত্তিতে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমি আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, সেই চুক্তিগুলোতে তৎকালীন ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল প্রাথমিক স্বাক্ষর করেছিল। এর অর্থ হলো, সবকিছু তাদের অনুকূলে ছিলো। এ চুক্তিগুলো থেকে সরে আসার কোনো কারণ আমি দেখি না। কিন্তু এই আলোচনা অবশ্যই ইস্তাম্বুলে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর ভিত্তিতে বাস্তবতার সাপেক্ষে হওয়া উচিত।’
আরও পড়ুন:
পুতিন আরও জানান, ইস্তাম্বুলের চুক্তি থেকে কিয়েভের সরে আসার কোনো কারণ নেই। কিয়েভ আলোচনায় আগ্রহী হলে মস্কো আলোচনার টেবিল খোলা রেখেছে। এরপর ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে পুতিন বলেন, শান্তি আলোচনা ফের শুরু হলেই নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান জানানোর জন্য রাশিয়ার ওপর হামলা চালায় ইউক্রেন। এটিই শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা।
তবে এ বিষয়ে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও সম্প্রতি
ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজ দেশের আক্রমণকারী বাহিনীর প্রশংসা করে জানান, কিয়েভের তৈরি করা চাপ রুশদের চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করছে। রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের একটি জ্বালানি কেন্দ্র ও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলার কথা জানানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আমি বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী সব বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ। রাশিয়ার উপর আমাদের সব ধরনের চাপ শান্তির পথে কাজে আসবে। রাশিয়ার বেশিরভাগ মানুষ ইতোমধ্যেই ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে যুদ্ধ শেষ করার দাবি জানিয়েছে। রাশিয়ানদের এটা বোঝা উচিত যে, এটি তাদের যুদ্ধ, আকাশ থেকে পড়া কোনো পাথর নয়। তাদেরই যুদ্ধ বন্ধ হবে।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বেশ কয়েক দফা শান্তি আলোচনা হয়েছে। তারপর তুরস্কে ২০২৫ সালে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তিন দফা বৈঠক হয়। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুদ্ধাবসান চুক্তির খসড়া নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ পয়েন্টের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ২০২৫ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।
পুতিন চাইছেন, তাদের দখলকৃত সব ভূমিকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক। পাশাপাশি ইউক্রেনের কখনই ন্যাটোতে যোগ না দেয়ার নিশ্চয়তা থাকুক। কিয়েভের সামরিক শক্তি কমানো ছাড়াও রাশিয়ার ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চান, যুদ্ধবিরতি, রুশ সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, বন্দি ও অপহৃত ইউক্রেনীয় শিশুদের মুক্তি, যুদ্ধাপরাধের জন্য রুশ নেতাদের বিচার এবং রাশিয়ার আরও আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।




