গাজা যুদ্ধে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন

গাজায় নিহত শিশুদের মরদেহ
গাজায় নিহত শিশুদের মরদেহ | ছবি: সংগৃহীত
0

অবরুদ্ধ গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলের হামলা গণহত্যার শামিল। দাবি জাতিসংঘের এক তদন্ত কমিশন। সংস্থাটি বলছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা করেছে। গাজা যুদ্ধে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দুজন নিহত হওয়া সত্ত্বেও নতুন যুদ্ধবিরতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর রয়েছে বলে জাানিয়েছে জাতিসংঘ।

ইসরাইলি হামলায় অবরুদ্ধ গাজায় প্রতিদিনই হতাহত হচ্ছেন কেউ না কেউ। মৃত্যুর এ মিছিল যেন থামছেই না। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ বলছে, গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। যা খুবই ভয়াবহ। শুধু তাই নয়, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে-যা গণহত্যার সামিল বলে অভিহিত করেছে পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইসরায়েল বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে।

মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরু হলে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক এই তদন্ত কমিশন।

তদন্ত কমিশনের সভাপতি শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, কমিশন ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হত্যার বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর যুদ্ধবিরতির পর থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর নির্যাতন, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ রয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য অপরিহার্য এতিমখানা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য কর হামলা চালানো

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজায় এই দফায় শিশু মৃত্যুর হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, এত বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা ছিল না বরং এসব হামলা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শুধু গাজাই নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ হয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে গাজা যুদ্ধের সময় দখলদার বাহিনী যে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে তা পুনরায় নিশ্চিত হয়েছে। এটি দখলদারদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার ব্যাপকতার আরও একটি প্রমাণ। যেখানে শিশু, নারী বা বেসামরিক নাগরিক—জনগোষ্ঠীর কোনো অংশই রেহাই পায়নি

এদিকে, ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ বিষয়ক জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দুজন নিহত হওয়া সত্ত্বেও জাতিসংঘ বলছে নতুন যুদ্ধবিরতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর রয়েছে।

এরইমধ্যে, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার উত্তেজনা কিছুটা শান্ত হওয়ায় দক্ষিণ লেবাননে ফিরে যাচ্ছে সেখানকার বাসিন্দারা।

ইএ