ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ‘ইরান সর্বোচ্চ স্তরের পরমাণু পরিদর্শনে পুরোপুরি সম্মত হয়েছে। তারা এটি না মানলে আলোচনা চলতো না।’ কিন্তু জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরিনি জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ড বৈঠকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। একইভাবে জব্দ করা অর্থ ব্যবহার নিয়েও দুই পক্ষ ভিন্ন কথা বলছে। ট্রাম্পের দাবি, অবমুক্ত অর্থ দিয়ে কেবল মার্কিন কৃষিপণ্য ও ওষুধ কেনা যাবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তা কেবল তারাই ঠিক করবে।
এদিকে নিজ দেশেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মার্কিন সিনেট যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব পাস করেছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী হলেও এটি ট্রাম্পের নিজ দলের মধ্যেই বিভক্তি স্পষ্ট করেছে। এছাড়া রয়টার্স-ইপসোস-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন এই যুদ্ধের ফলে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আগের চেয়ে দুর্বল হয়েছে।
আলোচনায় স্থবিরতা থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেলের প্রবাহ শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা প্রণালি বন্ধ হওয়ার সময় আটকা পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে। তবে হরমজ প্রণালিতে ‘টোল’ বা মাশুল আদায় নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইরান ও ওমান এক যৌথ বিবৃতিতে জলপথটির ওপর তাদের ‘সার্বভৌম অধিকার’ এবং মাশুল আদায়ের ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া হবে না।
লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের অবস্থান বিপরীতমুখী। ইরান দাবি করছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরাইলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বজায় রাখবে এবং প্রয়োজনে হামলা চালিয়ে যাবে। মঙ্গলবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি গুলিতে দুই জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা হিজবুল্লাহর মতে যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তেলের বাজারেও যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট; মঙ্গলবার ও বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে নেমে এসেছে।





