যুদ্ধ বন্ধে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের আলোচনা কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিলেও, তেহরানের নিউক্লিয়ার পাওয়ার পরিদর্শন নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তুলে ধরছে দুই দেশ।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, পারমাণবিক শক্তি যাচাইয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই। ভ্যান্সের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে এ বিষয়ে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে কোন ধরনের আলোচনা হয়নি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানের ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে পূরণে একধাপ এগিয়েছি। ইরান তাদের পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র পরিদর্শনে সম্মত হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার নিয়ে তেহরানের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।’
সুইজার্যল্যান্ডে ১৮ ঘণ্টা নিবিড় আলোচনার পর ইরানের তেল ও পেট্রোক্যামিকেলের ওপর থেকে আগামী পহেলা আগস্ট পর্যন্ত সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।
আরও পড়ুন:
আলোচনার পর ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দিতে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন। যার মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার পূর্বের নিষেধাজ্ঞার সময়কার। যদিও ট্রাম্প বলছে, এই অর্থ দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে তেহরানকে। তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষি পণ্য কিনতে বাধ্য নয় তেহরান।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানকে যে অর্থ দেয়া হবে, তার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছে যাবে। কারণ নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পর এ অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কিনবে ইরান। তাদের ৯১ মিলিয়ন মানুষের জন্য খাবার খুবই দরকার।’
দুই পক্ষের সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি খুললেও, তা পারাপারে গতি খুবই কম। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বলছে, গেলো ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ পার হয়েছে ২৪টি। যদিও এ সংকট সমাধানে টেলিফোন হটলাইন চালুর কথা বলছে তেহরান। তবে হরমুজ কখনই আগের অবস্থানে ফিরবে না বলে মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘হরমুজকে সচল করতে পুরো বিষয়টি সমন্বয়ে কাজ চলছে। কিছু কিছু নতুন সমস্যা সামনে আসছে। সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
এদিকে লেবানন নিয়েও সুখবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাত বন্ধে মঙ্গলবার লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার নতুন আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। যেখানে রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট সমাধানে পৌঁছানো যাবে বলে প্রত্যাশা ওয়াশিংটনের।
যদিও সোমবার লেবাননে নতুন কোনো আক্রমণ হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ। গেলো ২ মার্চের পর এ প্রথম শান্তিতে রাত কাটালো লেবাননবাসী।




