মেলোনি ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাইয়ানি আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। প্রকাশ্যে এই বাগ্বিতণ্ডা থেকে স্পষ্ট, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর গত কয়েক মাসে দুই নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পূর্ব ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। মেলোনি পরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনো অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ হয়নি। তবে এরপর ট্রাম্প ইতালির লা৭ টেলিভিশন চ্যানেলকে ফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সে (মেলোনি) আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুনয় করেছিল, আমার তার জন্য খারাপ লেগেছিল।’
এভিয়ানে কয়েকবার ট্রাম্প ও মেলোনিকে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছিল। একটি ছোট সোফায় বসে গভীর আলোচনায় মগ্ন থাকার সময় মেলোনিকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি, এতে সে সম্ভবত খুশি।’ ইনস্টাগ্রামে নিজের ৭০ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় মেলোনি বলেন, তিনি ‘সত্যিই বিস্মিত’ হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, আমি জানি না। আর এটিই প্রথমবার নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি তিনি একই কঠোরতা দেখান না, যাদের নেতাদের প্রতি বরং তিনি আরও বেশি আপসকামী আচরণ করেন। তবে তার একটি কথা মনে রাখা উচিত—আমি কিংবা ইতালি কখনো অনুনয় করি না।’ এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লা সঙ্গে সঙ্গে মেলোনিকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন। ইতালির রাজনীতিকেরাও মেলোনির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেনসি বলেছেন, কারও অধিকার নেই ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন অহংকারী সুরে কথা বলার। ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জিউসেপ্পে কন্তে বলেন, ইতালি এমন অপমান প্রাপ্য নয়।
মেলোনির নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির সিনেট গ্রুপের নেতা লুসিও মালান উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প ইউরোপের বিভিন্ন নেতাদের প্রতিই আপত্তিকর মন্তব্যের একটি ধারা বজায় রেখেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প আদতে এতটাই বিরক্ত কারণ মেলোনি প্রয়োজনে ওয়াশিংটনকে ‘না’ বলতে পেরেছেন। সরকারের জোটসঙ্গী লীগ পার্টির মাত্তেও সালভিনি সরাসরি বলেছেন, ‘যে জিওরজিয়াকে আক্রমণ করে, সে আমাদের সবাইকেই আক্রমণ করে।’
মেলোনি ও ট্রাম্পের এই বিরোধ কেবল একটি বাগ্বিতণ্ডা নয়, এটি একটি বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত। আগে যেখানে ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পকে মানিয়ে চলত, এখন তারা তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। কূটনীতিকেরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পর থেকে ইউরোপীয় নেতারা আরও দৃঢ় মনোভাব দেখাচ্ছেন। এই বছর ইউরোপজুড়ে আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতারা হয়তো ইউরোপীয় ভোটারদের মেজাজও প্রতিফলিত করছেন।





