গেল ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় আইন না মানার অভিযোগ এনে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব এক্সেস পুরোপুরি ব্লক করে দেয় রাশিয়ার টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা রসকোমানদজর। এর আগে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো বিদেশি অ্যাপগুলোতেও নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে মস্কো। এর পরিবর্তে দেশীয় মেসেঞ্জার অ্যাপ ম্যাক্স ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ক্রেমলিন।
তবে শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, অ্যাপটির মাধ্যমে জনগণের ব্যক্তিগত তথ্যে আড়ি পাঁতছে সরকার। একারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মাঝেও, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের মাধ্যমে বিদেশি অ্যাপের প্রতি ঝুঁকছেন রুশ নাগরিকরা। এ তালিকা থেকে পিছিয়ে নেই সরকারি কর্মকর্তারাও। মস্কো ভিত্তিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল বাজেটের তথ্য উদ্ধৃতি করে রুশ স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, শুধু মার্চেই গুগল প্লে স্টোর থেকে ৯২ লাখ বার ভিপিএন ডাউনলোড করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি। এছাড়াও, ইন্টারনেট নজরদারি থেকে বাঁচতে দুটি স্মার্টফোনও ব্যবহার করেন অনেক রুশ নাগরিক।
আরও পড়ুন:
রুশ নাগরিকরা বলেন, এটা বিরাট ঝামেলার ব্যাপার। অনেক সময় ভিপিএন ব্যবহার করে অ্যাপ চালাচ্ছি। আবার অনেক সময়ে এটি বন্ধ করছি। এভাবেই সারাদিন ভিপিএন অন-অফের মধ্যে আছি।
তবে পুতিনের সীমিত ইন্টারনেট ব্যবহার নীতি শুধু ব্যবহারকারী নয়, এর ফলে মাঝে মাঝেই ব্যাহত হচ্ছে ব্যাকিং, পরিবহন ও ই- কমার্সের মতো অনলাইন সেবা। অনেক রুশ অ্যাক্টিভিস্ট বলছে, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, করের অতিরিক্ত বোঝার কারণ ক্রমাগত জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়া পুতিনের পালকে নতুন করে যোগ হয়েছে জনগণের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারে খবরদারি। রাশিয়ার একটি জরিপ সংস্থার তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে পুতিনের জনপ্রিয়তা ৭৫.১ শতাংশ হলেও তা এপ্রিলে কমে ৬৫. ৬ শতাংশে পৌঁছায়। যা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সবর্নিম্ন। নিশ্চিতভাবেই সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের আগে তা পুতিনের জন্য অস্বস্তির বড় কারণ।
যদিও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তার দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমাদের প্রতিপক্ষে পরিণত হওয়া রাশিয়ার জন্য ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।




