ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে তোলপাড় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। কখনও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সমঝোতা করবে দুই দেশ। আবার, এর কিছু সময় পরেই ট্রাম্পের পোস্ট, আজকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে যাবে তেহরান-ওয়াশিংটনের।
স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে কেন বারবার ১৪ জুনের মধ্যে চুক্তি করা নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন ট্রাম্প। যার একটি প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা দিচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস। ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে চুক্তি করে একে ব্যক্তিগত প্রচারণা হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দ্বিতীয়বারের মতো জানান, আজকের মধ্যেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। শনিবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে একই কথা জানান ট্রাম্প। পোস্টের শুরুতেই ২০১৫ সালে ওবামার আমলে হওয়া পরমাণু চুক্তির সমালোচন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপর ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি সাক্ষরের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, সমঝোতার সঙ্গে সঙ্গে সচল করা হবে হরমুজের জাহাজ চলাচল। তবে, স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, সব কিছু শান্ত হলে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ ধ্বংস করতে আবারও সেখানে অভিযান চালাবে মার্কিন সেনারা।
আরও পড়ুন:
এদিকে, চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের চূড়ান্ত উচ্ছ্বাসের পরেও হোয়াইট হাউজ সূত্রের দাবি, ১৪ জুন রোববার প্রেসিডেন্টের দিনপঞ্জিতে ইরান চুক্তির ব্যাপারে কিছুরই উল্লেখ নেই।
বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও চুক্তির দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত নয় বলে দাবি ইরানের। পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের তথ্য, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ইরানের প্রতিনিধি দলের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাফ জানিয়েছেন এক দুই দিনের মধ্যে এই চুক্তি হবে না।
যদিও প্রজাতন্ত্রের অনেক কট্টরপন্থী সমর্থক এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের আশ্বস্ত করে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারক নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশ মেনেই আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তির ধারাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, চুক্তির পর সচল হবে হরমুজ। ইরানের বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দ করা অর্থের কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে প্রাথমিক চুক্তিতে পারমাণবিক ইস্যু থাকছে না। পরবর্তী ৬০ দিনে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।





