পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ভয়াবহ সংঘর্ষ; নিহত ১৫

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের একটি রাস্তা
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের একটি রাস্তা | ছবি: বিবিসি
0

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আগামী নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দেয় জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জেএএসি-এর ডাকে হাজার হাজার মানুষ আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের অভিমুখে লংমার্চ শুরু করলে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। কর্তৃপক্ষ এই সংগঠনটিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থামানো যায়নি। সরকারি হিসেবে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর একটি বিশাল বহর বর্তমানে রাওয়ালকোট শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান বিবিসি উর্দুকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টহল দিচ্ছেন এবং বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের এই বহরকে রাওয়ালকোট হয়ে মুজাফফরাবাদে যেতে দেয়া হবে না বলেও তিনি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালকোটে হেলিকপ্টার দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সহিংসতার জেরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকারের চরম অবনতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ, গণগ্রেপ্তার এবং প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার ন্যাক্কারজনক। বর্তমানে মুজাফফরাবাদে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের মূল আপত্তি হলো, যারা পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে বসবাস করেন না, সেই কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জেএএসি-এর দাবি, এই সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে এবং আইনসভার সব আসনে কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নির্বাচনের সুযোগ দিতে হবে। তবে ৫ জুন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করে। অন্যদিকে ওই অঞ্চলের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই আসনগুলো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং জনদাবিতে তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

এএম