দলের এই চরম সংকটের মুখে সাংগঠনিক সব পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা ও মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দলের সাধারণ সদস্য মাত্র। তবে এতেও বিদ্রোহের আগুন থামছে না। এনডিটিভি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সংসদ সদস্য (সাংসদ) এখন বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ফলে রাজ্য বিধানসভার পর এবার ভারতের সংসদেও বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে দলটি।
১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৬ সালে এসে কেন এমন পরিস্থিতির মুখে পড়লো, তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। বিদ্রোহী নেতাদের আঙুল মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চক্রান্তের কারণেই ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়েছিলেন, যিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া এবারের নির্বাচনে হারের পেছনে অভিষেক ও তাঁর অনুসারীদের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মকে দায়ী করছেন বিক্ষুব্ধ নেতারা।
সম্প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে অভিষেকসহ তৃণমূলের অনেক নেতাকে। তাঁদের ওপর পচা ডিম ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসবের জন্য বিজেপিকে দায়ী করলেও গুঞ্জন রয়েছে যে খোদ তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারাই নেপথ্যে রয়েছেন।
দলের ভাঙন চূড়ান্ত রূপ নেয় বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার সুপারিশ ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, ওই সুপারিশ পত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই ঋতব্রতকে সমর্থন দেয়ায় তিনি এখন বিরোধী দলনেতা।
সংকটে নিমজ্জিত তৃণমূল কংগ্রেসকে টেনে তুলতে এখন মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করলেও সেখানে বিক্ষুব্ধ ও ত্যাগী নেতাদের জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকের ঐক্য কি আদৌ ফিরবে, নাকি মমতা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কঠিনতম পরাজয়ের সাক্ষী হবেন—এখন সেটিই দেখার বিষয়।





