ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কোনো পক্ষ ছিল না। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, একটি মোটরসাইকেলে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া বৈরুতের আকাশে ইসরাইলি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণের বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে যে তারা হিজবুল্লাহর স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে যাবে। গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলের শান্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার জন্য হিজবুল্লাহকে অবশ্যই হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং সীমান্ত থেকে লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকা থেকে তাদের সব সদস্যকে সরিয়ে নিতে হবে। তবে এই বিবৃতিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো উল্লেখ নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে দখল করা ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গসহ তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরাইলি সেনারা অবস্থান করবে এবং আপাতত সেখানে সাধারণ মানুষকে ফিরতে দেয়া হবে না।
লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরাইলি অভিযানের ফলে প্রায় ১২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, লেবানন ও ইসরাইল দ্রুত কিছু ‘পাইলট জোন’ তৈরিতে সম্মত হয়েছে, যেখানে কেবল লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে থাকতে পারবে না।
এদিকে ইসরাইলের অতি-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘মারাত্মক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, হিজবুল্লাহ লিতানি নদীর দক্ষিণ থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরাবে না এবং লেবাননের সেনাবাহিনী তাদের বাধ্য করার ক্ষমতা রাখে না।
অন্যদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে ইসরাইল বৈরুতে হামলা চালাবে না। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ স্পষ্ট করেছেন যে, হিজবুল্লাহ যদি ইসরাইলি ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে বৈরুতে পাল্টা আঘাত হানার ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ ইসরাইলের রয়েছে। সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের মারজায়ুন এলাকায় মর্টারের আঘাতে জাতিসংঘের একজন শান্তিরক্ষী নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিল।





