ন্যাটো মিশনে জাপানি সেনা মোতায়েন নিয়ে চীনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

চীনের পতাকা
চীনের পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউক্রেনে ন্যাটোর নিরাপত্তা মিশনে জাপানি সামরিক কর্মকর্তা মোতায়েনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। গতকাল (সোমবার, ১ জুন)বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, জাপান পূর্ণ শক্তিতে পুনরায় সামরিকীকরণের পথে হাঁটছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার জানায়, ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সমন্বয় করতে জার্মানিতে অবস্থিত ন্যাটোর ‘সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ট্রেনিং অর্গানাইজেশন’-এ চারজন কর্মকর্তা পাঠাবে তারা। এর প্রতিক্রিয়ায় লিন জিয়ান বলেন, ‘জাপান সংবিধান এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। তারা কেবল রক্ষণাত্মক নীতির বাইরে গিয়ে যুদ্ধপ্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছে।’

চীনের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘জাপানে ‘‘নব্য-সামরিকবাদের’’ এই উত্থান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি শিনজিরো এবং চীনের মুখপাত্রের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। কোইজুমি শিনজিরো পরোক্ষভাবে চীনের সমালোচনা করে বলেন, ‘একটি দেশের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান থাকা সত্ত্বেও জাপানকেই ‘‘নব্য-সামরিকবাদী’’ তকমা দেয়া হচ্ছে।’

জবাবে লিন জিয়ান জাপানের রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেটের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন ছাড়িয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টানা ১৪ বছর ধরে সর্বোচ্চ।’ জাপানের মাথাপিছু প্রতিরক্ষা ব্যয় চীনের তিনগুণ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ এখন প্রতিরক্ষায় ব্যয় হচ্ছে, যা ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চীন আরও জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর জাপানের চালানো অপরাধের ইতিহাস এখনো অমলিন। লিন জিয়ান বলেন, ‘কোইজুমি শিনজিরোর বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই এবং এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করা জাপানের পক্ষে সম্ভব নয়।’

এএম