রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাষ্ট্রপতির একজন সহকারী একটি আকস্মিক অধ্যাদেশ পড়ে শোনান। সেখানে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ফায়ে তার একসময়কার রাজনৈতিক মিত্র সোনকোর ‘দায়িত্বের অবসান ঘটিয়েছেন’ এবং এর ধারাবাহিকতায় সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্বও শেষ হয়েছে।
সেনেগালের তরুণদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় নেতা সোনকো এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমি ভারমুক্ত হৃদয়ে ঘুমাবো।’
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, সেনেগালের সরকারি ঋণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। এমন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই এই দুই নেতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতায় ফাটল ধরলো। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে এই ঋণসংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ফায়ের পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী সোনকো। এর পরপরই তাকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত এলো।
আরও পড়ুন:
প্রেসিডেন্ট ফায়ের এই পদে আসার পেছনে মূলত সোনকোর জনপ্রিয়তাই বড় ভূমিকা রেখেছিল। মানহানির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি সোনকো। অন্যথায় তিনিই দেশটির শীর্ষ পদে আসতেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সে সময় সোনকো ফায়ের প্রার্থিতাকে সমর্থন করেন। নির্বাচনি প্রচারণায় তাদের স্লোগান ছিল, ‘দিওমায়েই সোনকো, সোনকোই দিওমায়ে’।
এই দুই নেতা মিলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সলকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এটি ছিল এক অভাবনীয় বিজয়, কারণ নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে তারা দুজনেই কারাগারে ছিলেন। সোনকোকে বরখাস্তের ঘোষণার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজধানী ডাকারের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক শ শিক্ষার্থী। তারা সোনকোর প্রতি তাদের সমর্থন জানান। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সোনকো ও ফায়ের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা চলছিল। ক্ষমতাসীন পাস্তেফ পার্টির মধ্যে সোনকোর ‘অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রীকরণ’ নিয়ে ফায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে সোনকো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ‘নেতৃত্বের ব্যর্থতা’র অভিযোগ তুলেছিলেন। সোনকোর দাবি ছিল, সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের মাঝেই সেনেগালের নেতারা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণসংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এই ঋণের কারণেই আইএমএফ সেনেগালের জন্য তাদের ১৮০ কোটি ডলারের (১৩০ কোটি পাউন্ড) ঋণসহায়তা কর্মসূচি স্থগিত করেছে।




