বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এই একটি আইপিওর মাধ্যমেই কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। স্পেসএক্সে তার সিংহভাগ মালিকানা থাকায় আইপিও পরবর্তী সময়ে তার ব্যক্তিগত সম্পদ ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেসএক্স বর্তমানে নিজেদের বাজারমূল্য ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার দাবি করছে। এতে মাস্কের শেয়ারের মূল্যই হতে পারে ৬০ হাজার কোটি ডলারের বেশি। গত বছর মাস্ক প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৫০ হাজার কোটি ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন।
আইপিও আবেদনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্পেসএক্সের আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার আয় করলেও ৪৯০ কোটি ডলার লোকসান করেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেও ৪৩০ কোটি ডলারের লোকসান গুনেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে রকেট ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ স্পেসএক্সের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ২০০ কোটি ডলার হলেও তাদের ঘাড়ে ৬ হাজার ৫০ কোটি ডলারের বিশাল ঋণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেসএক্সের মতো বিশাল ও ভবিষ্যৎমুখী প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুরুতে লোকসান হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
তবে এই আইপিও যাত্রায় বেশ কিছু আইনি জটিলতাও রয়েছে। মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর চ্যাটবট ‘গ্রোক’ ব্যবহার করে নারীদের আপত্তিকর ‘ডিপফেক’ ছবি তৈরির অভিযোগে মামলাসহ আরও বেশ কিছু আইনি মোকাবিলা করতে হচ্ছে স্পেসএক্সকে।
এছাড়া পেটেন্ট লঙ্ঘন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিমালা অমান্য এবং ডাটা চুরির মতো অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মাস্ক জানিয়েছেন, তিনি ‘এক্সএআই’ বিলুপ্ত করে তার সব এআই কার্যক্রম স্পেসএক্সের অধীনেই চালাবেন। স্পেসএক্সের অধীনে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিঙ্ক’-ও রয়েছে।





