যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান দাবি ছিল, ইরানের কাছে থাকা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি মাত্রার (৬০ শতাংশ) সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইসরাইলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে এই শর্তটি অবশ্যই রাখা হবে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো, ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে মানবেন না।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের ঐকমত্য হলো—ইউরেনিয়ামের মজুত কোনোভাবেই দেশ ছাড়বে না। তেহরান মনে করে, এই মজুত দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিলে তারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মুখে আরও বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়বে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠাতে রাজি ছিল। তবে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির পর তেহরান সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও শান্তি আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি নেই। ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর সন্দেহ রয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত ওয়াশিংটনের একটি ‘কৌশলগত প্রতারণা’, যা নতুন করে হামলার আগে তেহরানকে একধরনের মিথ্যা নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্রাম্প বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চুক্তি না হলে ফের হামলা চালানো হবে।
এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা ব্যবধান কমলেও ইউরেনিয়ামের মজুত এবং সমৃদ্ধকরণের অধিকারের প্রশ্নে বড় ধরনের মতভেদ রয়েই গেছে। তবে ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম মজুত দেশের বাইরে না পাঠিয়েও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তদারকিতে তা লঘু বা ‘ডাইলিউট’ করার মতো কিছু বিকল্প সমাধান নিয়ে আলোচনা হতে পারে।





 Director General Rafael Grossi-320x167.webp)