কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপ রাষ্ট্র কিউবার ওপর একের পর এক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সব শেষ বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করলো মার্কিন বিচার বিভাগ। ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের- ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ মিশনের দুটি বিমানে কিউবার প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগপত্রে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, ৪ জনকে হত্যা এবং দুটি বিমান ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে ৯৪ বছর বয়সী এই নেতার বিরুদ্ধে। মিয়ামির ফেডারেল আদালতে করা মামলায় আরও পাঁচজনকে আসামি হিসেবে নাম দেয়া হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে রাউল কাস্ত্রোর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, অভিযোগপত্রে রাউল কাস্ত্রো এবং তার পাঁচ সহযোগীর নাম রয়েছে। যারা এমন একটি ষড়যন্ত্র করেছিলেন, যার ফলস্বরূপ কিউবার সামরিক বিমান থেকে বেসামরিক বিমানগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিলো। ফলে চার আমেরিকান নিহত হয়েছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নাগরিকদের ভুলে যান না এবং যাবেনও না।
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কৌশল ও আইনিভাবে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল। এক্স পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন:
এমন পরিস্থিতিতে দুর্ধর্ষ অভিযান চালিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো করে; কিউবার নেতা রাউল কাস্ত্রোকেও যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেয়া হবে কী না- তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ মাদক পাচারসহ একাধিক মামলায় এখন যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীসহ কারাবন্দী রয়েছেন নিকোলাস মাদুরো। এর আগে ভেনিজুয়েলা, ইরানের পর কিউবাকে টার্গেট করার হুমকিও দিয়ে রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কিউবার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিউবার সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহের উৎস ছিলো ভেনিজুয়েলা। কিন্তু জানুয়ারিতে দেশটি মার্কিন কব্জায় যাওয়ার পর সেই পথ বন্ধ। শুধু তাই নয়, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রায় জ্বালানি শূন্য করে দেয়া হয়েছে দেশটিকে। মার্কিন শুল্ক হুমকি উপেক্ষা করে কিউবায় তেল পাঠানোর দুঃসাহস দেখাচ্ছে না কোনো দেশ। এতে প্রায় অন্ধকারে ডুবে গেছে দেশটি।





