একদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ। অন্যদিকে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে এক চুলও ছাড় দিতে নাজার ইরান। যার কারণে বাড়াচ্ছে নজরদারি। ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ- পিজিএসএ নামে নতুন সংস্থাও গঠন করেছে তেহরান।
এ অবস্থায় টানা ৮০ দিনের বেশি সময় ধরে ধুঁকছে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট হরমুজ প্রণালি। উত্তেজনার মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করলেও; যুদ্ধের আগের সেই চিরচেনা রূপে কবে ফিরবে হরমুজ প্রণালি? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
এমন পরিস্থিতিতে দেশে ঘনীভূত হচ্ছে উদ্বেগ। জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত জীবনযাত্রা ব্যয়ে নাভিশ্বাস অবস্থায় এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা'র মানুষ। গবেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে কেবল বৈশ্বিক জ্বালানি নয়; সার এবং শস্য সরবরাহ শৃঙ্খলও বড় ধরণের সংকটের মুখোমুখি। কারণ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ হয় এই রুট দিয়ে। লাগামহীন চাপ মোকাবিলায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত শান্তির পথ বেছে নেয়া আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।
সুইডেনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনস্টিটিউটের গবেষক থমাস কার্লসন বলেন, আমরা আশা করি তারা শত্রুতা শেষ করার উপায় খুঁজে বের করতে পারবে এবং এমন এক ধরনের শান্তি আলোচনা করতে পারবে যা বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক হবে। দ্রুত এই সংকটের অবসান দরকার। কারণ বিশেষ করে ইউরোপ এবং গোটা বিশ্বের কৃষিকাজ ও জমি উর্বর রাখার জন্য জ্বালানি তেল, সার এই প্রণালি দিয়ে চলাচল জরুরি হয়ে ওঠেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন ও টোল আরোপ বন্ধের লক্ষ্যে নিজেদের প্রচেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অন্যদিকে বিশ্বের বাণিজ্য প্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে বৈঠক করেছে জি-সেভেন দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত থেকে রাশিয়া যেন কিছুতেই লাভবান হতে না পারে সে বিষয়েও বৈঠকে জোর দেন জি-সেভেনের প্রতিনিধিরা।





