গত ১৩ মে সংশোধিত সিআরএসের এই নথি অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন বিভিন্ন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিক্সড-উইং বিমান, হেলিকপ্টার এবং চালকবিহীন ড্রোন। তবে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণ নির্ণয়ের জটিলতার কারণে এই সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেন্টকমের তথ্যমতে যুক্তরাষ্ট্র ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের গুলিতেই বিধ্বস্ত হয়। চতুর্থটি গত ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে লড়াই করার সময় শত্রুসেনার গুলিতে ভূপাতিত হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ লাইটনিং-টু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে এলেও সেন্টকম তা এখনো নিশ্চিত করেনি।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন গত ৬ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শত্রুপক্ষের হামলায় একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-টু যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া সাতটি কেসি-১৩৫ আকাশ থেকে তেল সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে সিআরএস। এর মধ্যে পাঁচটি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে থাকা অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের লোকসানের খবর দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, একটি এমকিউ-৪সি ট্রিটন ড্রোন এবং দুটি এমসি-১৩০জে বিশেষ অপারেশন বিমান হারানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআরএস জানিয়েছে, ৪২টির মধ্যে আটটি আকাশযান হারানোর খবর সেন্টকম নিশ্চিত করেছে, বাকিগুলো সংবাদমাধ্যমের সূত্রের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে। এদিকে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস ডব্লিউ হার্স্ট গত ১২ মে এক শুনানিতে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বেড়ে ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে এই বিশাল ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। কংগ্রেস এখন খতিয়ে দেখছে যে, হারিয়ে যাওয়া এসব আকাশযানের বিপরীতে নতুন বিমান সংগ্রহের জন্য পেন্টাগনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা বাজেট আছে কি না। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে এবং দুই পক্ষ স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।





