তাইওয়ান ইস্যুতে অনড় চীন, অস্থিতিশীলতার জন্য বেইজিংকে দায়ী করছে ডিপিপি

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে | ছবি: সংগৃহীত
0

তাইওয়ান ইস্যু বরাবরই চীনের জন্য স্পর্শকাতর। কোনকিছুর বিনিময়ে দ্বীপটিকে হাতছাড়া করতে নারাজ বেইজিং। অন্যদিকে তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা ইস্যুতে বরাবরই সক্রিয় ক্ষমতাসীন দল ডিপিপি। তাদের অভিযোগ, চীনের চলমান সামরিক কার্যক্রমই এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী।

তাইওয়ানকে পুনরায় একীকরণ- চীনের এ আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক। ১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধের শেষে চীনের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে কমিউনিস্ট পার্টির হাতে। আর তখন পরাজিত কুওমিনতাং বাহিনী পিছু হটে তাইওয়ানে চলে যায় এবং তাইপেতে তাদের সরকারকে পুনর্বাসিত করে। আর তখন থেকেই স্বশাসিত দ্বীপটির ওপর নমনীয়ভাবে নিজেদের মালিকানা দাবি করে বেইজিং।

শি জিনপিং চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর, তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর হয়ে উঠে চীনা সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় গেলো কয়েক বছরে একের পর এক চাপ বাড়িয়েছে তারা। এগুলো হলো- সামরিক মহড়া, কূটনৈতিকভাবে তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন করা এবং তাইওয়ানের জলসীমা ও আকাশসীমা কাছাকাছি গ্রে-জোন ওয়ারফেয়ারে নিয়মিতভাবে যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান পাঠানো।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে তাইওয়ান আসলে কি চায়? এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বলছে, চীনের সাথে অবিচ্ছেদ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে তাইপের। তবে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তাইওয়ানের বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের চীন থেকে রাজনৈতিকভাবে স্বতন্ত্র মনে করে-এমনই তথ্য দিয়েছে বিবিসি।

আরও পড়ুন:

অবশ্য তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন-ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি-ডিপিপি বরাবরই তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তারা বলছে, তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিবেচনা করে, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।

এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে আবারো আলোচনায় চলে আসে তাইওয়ান ইস্যু। এসময় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে' বলেন, তারা বেইজিংয়ের অংশ নয় এমনকি চীনেরও অধীনে নয়। আর বেইজিংয়ে চলমান সামরিক কার্যক্রমই আঞ্চলিক অস্বস্তি ও অস্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় উৎস বলে অভিযোগ তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং তাই'র।

তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং বলেন, চীন একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র। এটি একটি বাস্তবতা। এর কোন পরিবর্তন হবে না। কিন্তু চীন তাইওয়ান প্রণালী অঞ্চল, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, দক্ষিণ চীন সাগর এবং এমনকি জাপানের আশেপাশেও বিভিন্ন মাপ ও ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে, যা নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন শিল্পের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে- যা আঞ্চলিক অস্বস্তির সবচেয়ে বড় উৎস

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশন-ডব্লিউএইচার কার্যসূচিতে তাইওয়ানকে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে অংশগ্রহণের প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে টানা দশ বছর প্রত্যাখ্যান হলো তাইওয়ান-সম্পর্কিত এ ধরনের প্রস্তাব। এতে বোঝাই যাচ্ছে, শুধু সামরিক উপস্থিতি নয়, কূটনৈতিকভাবে তাইওয়ানকে চাপে রাখছে চীন।

ইএ