প্রস্তাবটির বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক মন্তব্যে ইরানের উপপররাষ্ট্রমেন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ‘তেহরান সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ফেরত এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের অবসান চায়।’ তবে ইরানের পক্ষ থেকে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে, তা গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান করা আগের প্রস্তাবের চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়। ট্রাম্প ওই সময় ইরানের প্রস্তাবকে ‘আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
অবশ্য চলতি সপ্তাহের সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাব আসায় তিনি ইরানে পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘খুব ভালো সুযোগ’ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে তিনি হামলা স্থগিত করেছেন। ওই দেশগুলোর ধারণা, একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প বারবার ইরানে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েও আলোচনার অগ্রগতির কথা বলে তা স্থগিত করছেন। সোমবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হবে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের ওপর নির্বিচারে বোমা না ফেলেই যদি আমরা কোনো সমাধান করতে পারি, তবে আমি খুব খুশি হবো।’
এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানের এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে দুই পক্ষই বারবার তাদের লক্ষ্য বা ‘গোলপোস্ট’ পরিবর্তন করছে উল্লেখ করে সূত্রটি সতর্ক করেছে যে, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে।’
একটি জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র দাবি করেছে, ওয়াশিংটন কিছুটা নমনীয় হয়ে বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের মোট অর্থের চার ভাগের এক ভাগ (কয়েক’শ কোটি ডলার) ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। যদিও ইরান সব অর্থ একবারে ফেরত চায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অধীনে ইরানকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা নমনীয়তা দেখাচ্ছে বলে ওই সূত্র জানায়। তবে তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি যুক্তরাষ্ট্র নাকচ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।





