ফিলিস্তিনি মুক্তিকামীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন কার্যকর ইসরাইলে

নেসেট
নেসেট | ছবি: সংগৃহীত
0

অধিকৃত পশ্চিম তীরে তথাকথিত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত ফিলিস্তিনি মুক্তিকামীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে করা আইন কার্যকর করলো ইসরাইল। প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডারের সামরিক আদেশে সাক্ষরের পর তা আইনে পরিণত হয়। ইতোমধ্যে আইনটিকে বিতর্কিত উল্লেখ করে ইসরাইলি কোর্টে রিট করেছে কয়েকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। এদিকে, নেতানিয়াহুর নির্দেশে ফের গাজা অভিমুখী ৫৪টি 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা' নৌবহর আটক করেছে আইডিএফ।

এছাড়াও, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভিন্ন ফ্রন্টে লেবাননে যুদ্ধবিরতির মাঝেও ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ইসলামিক জিহাদের এক কমান্ডারসহ ৫ জনের প্রাণ ঝরেছে।

খাতা-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করলেও তা ভঙ্গ করা এক প্রকার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফের। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ট্রাম্প গাজায় হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও, হরহামেশা ইসরাইলি হামলায় মৃত্যু তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ফিলিস্তিনির নাম। সন্তান হারানো মায়ের গগনবিদারী আর্তনাদ আর খাদ্যের অভাবে নবজাতকের কান্নায় ভারী হচ্ছে চারপাশ।

সোমবার গাজার দেইর- ই বালাহ, খান ইউনিস ও বেইত লাহিয়াতে ইসরাইলি হামলায় কয়েকজনের প্রাণ ঝরেছে। হামলা থেকে রেহাই পায়নি কমিউনিটি রান্নাঘরও। প্রাণ গেছে কয়েকজন কর্মীর।

এছাড়াও, সম্প্রতি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড ও প্রকাশ্যে বিচারের বিধান রেখে একটি বিতর্কিত আইন পাস করে ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট। এবার একই ধারাবাহিকতায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে তথাকথিত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত ফিলিস্তিনি মুক্তিকামীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রেখে একটি আইন পাস করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

আইন অনুযায়ী সন্ত্রাসী হামলায় কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে অভিযুক্তদের বিচার সামরিক আদালতে করতে হবে এবং তার একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। আইনটির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো এটি কোনো ইসরাইলি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধু সামরিক আদালতে বিচারাধীন ফিলিস্তিনি অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।

এছাড়াও, এই আইন শুধু তাদের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে, যারা ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না। এটা থেকেই স্পষ্ট বিধানটি স্রেফ মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের নির্মূলে কার্যকর করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে আইনটির বিরুদ্ধে ইসরাইলের হাইকোর্টে আবেদন করেছে বেশ কয়েকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। ২৪ মে'র মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে নিষ্পত্তি করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ব্যাঙ্গাত্নক বার্তা, যারা ইহুদিদের হত্যা করে, তারা কারাগারে শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাদেরকে কৃতকর্মের চরম মূল্য দিতে হবে।

এদিকে, ফের গাজাগামী মানবিক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহর আটকের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। এ নিয়ে রোববার তেল-আবিবে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকে বসেন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট। সিদ্ধান্ত হয়, নৌবহরে থাকা অধিকারকর্মীদের আটক করে ভাসমান কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

এদিকে, হামাস কমান্ডার আল- হাদ্দাদ হত্যার ঘটনায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও লেবাননে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। এতে প্রাণ ঝরেছে বেশ কয়েকজনের। লেবাননের একটি ব্যবসায়িক সংগঠনের তথ্য, ২০২৪ সাল থেকে ইসরাইলি হামলা শুরুর পর দেশটি ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যা পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে।

ইএ