কানাডীয় সশস্ত্র বাহিনীর রিজার্ভ ইউনিট ‘রেঞ্জার্স’ দীর্ঘ সময় ধরে আর্কটিকের দুর্গম এলাকায় নিয়োজিত রয়েছে। গত তিন বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষ কানাডার এ রেঞ্জার্স ইউনিটের আদলে নিজস্ব বাহিনী গঠনের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। ট্রাম্পের হুমকি এবং এ অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান শত্রুতার আশঙ্কায় এ আলোচনা এখন আরও গতি পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নর্ডিক দেশগুলোকে ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে না করায় কার্নি ‘মিডল পাওয়ার’ বা মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে চাইছেন। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্পের নেতৃত্বের কারণেই মিত্র দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষায় নিজেরা অবদান রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চল এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠায় এখানে বৈশ্বিক রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ছে। রাশিয়ার এই অঞ্চলে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং চীনও রাশিয়ার সঙ্গে মিলে খনিজ সমৃদ্ধ এই এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। মার্ক কার্নি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কানাডা তার ভূখণ্ড রক্ষার জন্য আর অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না।
গত মার্চে কানাডা এবং ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন—এই পাঁচ নর্ডিক দেশ সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া সাইবার হামলা মোকাবিলায়ও তারা যৌথভাবে কাজ করবে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, নর্যাড-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও কানাডা এখন নতুন নতুন জোট গড়ার দিকে মনোনিবেশ করছে। এর অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ডের নুক শহরে একটি কনস্যুলেট খুলেছে কানাডা।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর নর্ডিক দেশগুলো যেভাবে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে, কানাডারও এখন সেই পথে হাঁটা উচিত। ঐতিহাসিকভাবে আর্কটিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় কানাডার বিনিয়োগ রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশ কম ছিল। তবে ট্রাম্পের ক্রমাগত চাপের মুখে গত বছর কানাডা তার জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কটিক বিশেষজ্ঞ রব হুবার্ট মনে করেন, উন্নত সামরিক সরঞ্জামের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা বজায় রাখা জরুরি হলেও ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতির কারণেই কানাডা এখন নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক মহড়ায় বেশি সক্রিয় হচ্ছে।





