স্টারমারকে হটাতে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং
ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রভাবশালী স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৪ মে) পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে অদূরদর্শিতা ও নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর অভিযোগ তোলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রায় দুই বছর আগে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সংকটে সেই প্রতিশ্রুতি এখন ফিকে হয়ে আসছে।

স্টারমারকে উদ্দেশ করে পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং লিখেছেন, ‘এটি এখন পরিষ্কার যে আপনি আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।’ তিনি এখনই আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের লড়াই শুরু না করলেও একটি সুশৃঙ্খল সময়সীমার মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে আমাদের ভিশন দরকার ছিল, সেখানে এখন শূন্যতা। আমাদের নেতৃত্বের দায় নেয়া প্রয়োজন ছিল, কিন্তু প্রায়ই দেখা যাচ্ছে নিজের দায় এড়াতে অন্যদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।’

স্ট্রিটিংয়ের এই পদত্যাগের ফলে স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। তবে কিয়ার স্টারমার এখনই ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজের পদ রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভসও দলীয় আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তখন দেশকে নতুন করে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দেয়া ঠিক হবে না।

এদিকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসছে। এদের মধ্যে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার, ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, জ্বালানি নিরাপত্তা মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস অন্যতম। তবে দলীয় সদস্যদের মধ্যে চালানো এক জরিপ বলছে, স্টারমার পদত্যাগ করলে বামপন্থী কোনো প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

যুক্তরাজ্যের এই রাজনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী নেতারাও। গত ১০ বছরে সাতজন প্রধানমন্ত্রী বদলের সম্ভাবনা বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করছে বলে তারা মনে করছেন। ব্রিটিশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আভিভার প্রধান নির্বাহী আমান্ডা ব্ল্যাংক বলেন, ‘ঘন ঘন সরকার ও কৌশলের পরিবর্তন যুক্তরাজ্যের মতো বড় অর্থনীতির দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।’

এএম