বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক দেশে ভারতের জুয়েলারি প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের বাজারে ধস। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদে একটি অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে আগামী এক বছর স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপরই দেশটির টাইটান, কল্যাণ জুয়েলার্স ও সেনকোর মতো জুয়েলারি কোম্পানির শেয়ারের সম্মিলিত বাজারদর কমে প্রায় ৫০ হাজার কোটি রুপি।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পণ্যের আমদানির খরচ বেড়েছে। এ অস্থিরতায় ভারতের স্বর্ণ আমদানির খরচও বেড়েছে। এতে চাপ পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। এরকম পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে এক বছরের জন্য স্বর্ণ বেচাকেনা না করার আবেদন জানান। যা ডলারের চাহিদা কমাতে এবং ভারতীয় রুপির মান স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, ভারতীয় ব্যাংকগুলোর কর নিয়ে অপ্রত্যাশিত দাবির মুখে এপ্রিলে দেশটিতে স্বর্ণ আমদানি গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটি প্রতি মাসে গড়ে ৬০ টন স্বর্ণ আমদানি করে, যার গড় খরচ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার।
এছাড়া ভারত অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৮ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে থাকে। চলমান ইরান যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটি। পুরো বিষয়টি নিয়ে গহনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
এদিকে, স্বর্ণ কেনা ছাড়াও ভারতীয়দের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংযম দেখাতে অনুরোধ রাখেন নরেন্দ্র মোদী। দেশের খাতিরে অন্তত এক বছর বিদেশ ভ্রমণ, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং না করা এবং মেট্রো ব্যবহার করে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানান তিনি। তবে নরেন্দ্র মোদি এ আহ্বানে বিমান ও ভ্রমণ সংস্থাগুলোর শেয়ার ও চাহিদাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।




