মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকা পড়েছে। এতে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো বিকল্প হিসেবে মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল রপ্তানির চাহিদা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে তেল পাঠানোর বদলে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে আরও বেশি জ্বালানি ধরে রাখলে দাম কমানো সম্ভব কি না।
কিছু শিল্প বিশ্লেষক মনে করেন, স্বল্প সময়ের জন্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আনলে দাম কমানো যেতে পারে। তবে তাদের আশঙ্কা, এতে মার্কিন শোধনাগারগুলো চাপে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারীর সুনাম হারাবে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলো মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে তেল, পেট্রোল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম আরও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বার্গাম বারবার জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস এখনই রপ্তানি সীমিত করার কথা ভাবছে না। তবে কিছু আইনপ্রণেতা এ ধরনের উদ্যোগের পক্ষে। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্না উচ্চ জ্বালানি দামের সময়ে পেট্রোল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল আবারও উত্থাপন করেছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদিও মোট হিসাবে তেল রপ্তানিকারক দেশ, তবু প্রতিদিন প্রায় ৬৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। কারণ, দেশটির পুরোনো শোধনাগারগুলো সব ধরনের জ্বালানি শুধু দেশীয় হালকা তেল দিয়ে উৎপাদন করতে পারে না; কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ভারী তেলের সঙ্গেও মিশ্রণ দরকার হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ‘জ্বালানি দ্বীপ’ নয়।
র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রধান বব ম্যাকন্যালি সতর্ক করে বলেছেন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে দাম কমলেও তা সাময়িক হবে। এতে শোধনাগারগুলোর মুনাফা কমে যাবে, তারা উৎপাদনও কমিয়ে দিতে পারে। তার ভাষায়, ‘শোধনাগারগুলো কম পেট্রোল উৎপাদন করবে, আর শেষ পর্যন্ত তাতে দামই বাড়বে।’ তবে সংকট আরও গভীর হলে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু ধরনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে ম্যাককুয়ারি গ্রুপের জ্বালানি কৌশলবিদ বিকাশ দ্বিবেদী মনে করেন, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও তেলের দাম কমিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু আরবিএন এনার্জির রবার্ট অয়ার্সের ভাষায়, এমন সিদ্ধান্ত হবে ‘পুরোপুরি বিশৃঙ্খল’। এতে কিছু শোধনাগার উৎপাদন কমাবে, এমনকি কেউ কেউ স্থায়ীভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন তেলের সরবরাহ কমে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তা নতুন বাণিজ্যযুদ্ধ, মন্দা এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে চাপ তৈরি করতে পারে। এক বিশ্লেষকের ভাষায়, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জ্বালানি অস্ত্রাগার’ হিসেবে দীর্ঘদিনের সুনাম স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে।





