ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন হামলায় নিহত ২; মাদককারবারি দমনে নিহতের সংখ্যা ১৮৮

মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে যে জাহাজটি 'নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠন' দ্বারা পরিচালিত ছিল।
মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে যে জাহাজটি 'নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠন' দ্বারা পরিচালিত ছিল। | ছবি: মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড
0

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদকবাহী একটি নৌকায় বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত সোমবারের এই হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ল্যাটিন আমেরিকার জলসীমায় সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে ‘মাদক সন্ত্রাস’ বন্ধের লক্ষে এই আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ শুরু করে। সম্প্রতি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও এ ধরনের হামলা জোরদার করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যবস্তু করা নৌকাগুলো সত্যিই মাদক বহন করছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ দেয়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী।

গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের কয়েক মাস আগে থেকেই ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন:

সবশেষ হামলার বিষয়ে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা মাদক পাচারের পরিচিত রুটগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তাদের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, চলন্ত একটি নৌকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ল্যাটিন আমেরিকার ড্রাগ কার্টেল বা মাদককারবারিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘সশস্ত্র যুদ্ধে’ লিপ্ত। যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ এবং এর ফলে প্রাণহানি কমাতে এই হামলাকে প্রয়োজনীয় বলে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। তবে সমালোচকরা এই নৌ-হামলার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তথাকথিত ‘মাদক সন্ত্রাসীদের’ হত্যার দাবির সপক্ষে প্রমাণের অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

এএম