সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ৩৭ শতাংশ মানুষ মনে করছেন তাদের জীবন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ৩৫ শতাংশের কাছে বর্তমান সময়টি অত্যন্ত উত্তেজনাকর এবং ৩২ শতাংশের কাছে এটি বড় চ্যালেঞ্জ।
২০২৬ সাল কেবল একটি খারাপ বছর নয়, বরং এটি একটি পদ্ধতিগত পতনের প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষের পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং অর্থনৈতিক টিকে থাকার লড়াই একই খাদে গিয়ে মিশছে। তরুণ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। জেন-জি প্রজন্মের অর্ধেকের বেশি মানুষ চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন।
অন্যদিকে মিলেনিয়াল, জেন-এক্স এবং বেবি বুমাররা আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হলেও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে তরুণরাই সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত। যাদের সামনে দীর্ঘ পথ পড়ে আছে, তারাই ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছেন। এ সংকটের কেন্দ্রে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, ৫১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের চূড়ান্ত ক্ষোভ রক্তক্ষয় বা সময়ের তুলনায় ফলপ্রসূ হয়নি। এছাড়া ৪১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন গাজায় ইসরাইলের ধ্বংসযজ্ঞ একটি ‘গণহত্যা’ বা এর কাছাকাছি কিছু। এ পুরো ব্যবস্থায় ট্রাম্প একই সঙ্গে সংকটের লক্ষণ এবং এর রক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থাও অত্যন্ত ভঙ্গুর। ৮৭ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে না পারায় দেশ সংকটে পড়েছে। অর্ধেক জনসংখ্যা তাদের বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে এবং পর্যাপ্ত খাবার কিনতে পারছে না। এটি কেবল সাময়িক কোনো কষ্ট নয়, বরং একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা।
যখন টিকে থাকাটাই প্রতি মাসের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, তখন উদ্বেগ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অংশ হয়ে যায়। মানুষ এখন আর নিজেদের জীবনের নিয়ন্ত্রক মনে করছে না, বরং তারা অদৃশ্য কোনো শক্তির হাতে পরিচালিত তুচ্ছ চরিত্রে পরিণত হয়েছে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জরিপ বলছে, দেশটির ৬৬ শতাংশ তরুণ বর্তমান অবস্থার কারণে দেশত্যাগের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন। একে বলা হচ্ছে ‘ডন ড্যাশ’।
অভিবাসন সংস্থাগুলোর মতে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনের হার আগের চেয়ে ৪৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যেই ৭৯ শতাংশ মানুষ জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। খবরের কাগজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রুটিনমাফিক জীবনযাপন এবং সামাজিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে।
২০২৬ সালের আমেরিকা যেন সেই অভিশপ্ত প্রাসাদের মতো, যা গৌরবের স্মারক হলেও বর্তমানে জরাজীর্ণ। এর ফাটলগুলো জাতীয় মনস্তত্ত্বেরই প্রতিফলন। এখন প্রশ্ন হলো, ভেতরে থাকা মানুষেরা কি বাইরে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাবেন, নাকি ধ্বংসস্তূপ থেকেই নতুন কিছু গড়ে তুলবেন। কেউ কেউ পতনের শব্দ শুনছেন, আবার কেউ কেউ হয়তো এর মধ্যেই নতুন কোনো সম্ভাবনার ছন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।





