ইউক্রেনের ‘দুর্গ বলয়ে’ ঢোকার চেষ্টায় রুশ বাহিনী, হামলা অব্যাহত

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেতস্ক ও কোস্ত্যন্তিনিভকার
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেতস্ক ও কোস্ত্যন্তিনিভকার | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেতস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকার দিকে এগোচ্ছে রুশ সেনারা। শহরটির উপকণ্ঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কোস্ত্যন্তিনিভকা ও এর আশপাশের শহরগুলো ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কাছে একটি ‘ফোর্ট্রেস বেল্ট’ বা দুর্গ বলয় হিসেবে পরিচিত, যা দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত সুরক্ষিত।

টেলিগ্রাম অ্যাপে দেয়া এক বার্তায় সেনাপ্রধান সিরস্কি বলেন, ‘শহরটিতে বর্তমানে ‘‘নাশকতা বিরোধী পদক্ষেপ’’ নেয়া হচ্ছে।’ ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণকারী প্রজেক্ট ‘ডিপস্টেট’-এর মানচিত্র অনুযায়ী, রুশ সেনারা এখন শহরটির দক্ষিণ প্রান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এর আগে গত বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা কোস্ত্যন্তিনিভকার ঠিক উত্তরে অবস্থিত নোভোদমিত্রিকা গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

এদিকে শনিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলের মিরোপিলিয়া গ্রামটি দখল করেছে। মস্কো সেখানে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ বলয় তৈরি করতে চায়। তবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কুর্স্ক গ্রুপ এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, এলাকাটি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। সুমিতে একটি রুশ বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন শহরে যাত্রীবাহী একটি মিনিবাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর খেরসনেই আরেকটি মিনিবাসে হামলা চালানো হয়, যাতে চালক আহত হন। ওডেসার কৃষ্ণসাগর উপকূলে রুশ হামলায় বন্দর অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের একটি পরিকল্পনা বার্লিনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিকল্পনায় বাইডেন আমলের একটি প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার আওতায় দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একটি মার্কিন ব্যাটালিয়ন জার্মানিতে মোতায়েন করার কথা ছিল। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, এই পরিস্থিতি ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করবে। তবে দুজন শীর্ষ মার্কিন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন পিয়ংইয়ংয়ে ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়তে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। গত শুক্রবার প্রকাশিত ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদেশে অভিযানে পাঠানো তরুণ সেনারা দেশের সম্মান রক্ষায় ‘বোমা ও অগ্নিশিখায়’ পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে লড়াইয়ের জন্য উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছে।

এএম