তেল খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ট্রাম্পের এই আলোচনা এমন এক সময়ে এলো, যখন সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে দেশটিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বাধ্য করতে। ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে ক্রমাগত হুমকি দিলেও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে। পাকিস্তানের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, উভয় পক্ষই একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদান করছে।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা জানে না কীভাবে একটি অ-পারমাণবিক চুক্তি সই করতে হয়। তাদের দ্রুত বুদ্ধিমান হতে হবে!’ এই পোস্টের সঙ্গে তিনি নিজের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি যুদ্ধংদেহী ছবিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, ট্রাম্প চশমা পরা অবস্থায় হাতে একটি মেশিনগান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং নিচে লেখা—‘আর কোনো ভদ্রতা নয়’।
দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের আশঙ্কায় গতকাল (বুধবার, ২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৫০০ কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলার। সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হুশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা ‘নজিরবিহীন সামরিক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে। অন্যদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবলই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশটির মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে এবং মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প অবরোধের মাধ্যমে ইরানিদের বিভক্ত করতে এবং তাদের আত্মসমর্পণ করাতে চাইছেন। তবে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ নামে একটি আন্তর্জাতিক জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করলেও তারা সংঘাত বন্ধের পরই কেবল সহায়তা করার কথা জানিয়েছে। ট্রাম্পের ওপরও দেশের ভেতরে চাপ বাড়ছে, কারণ মার্কিন নাগরিকেরা জ্বালানি তেলের লাগামহীন দামে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।





