পারমাণবিক ইস্যু ও বন্দর অবরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সমঝোতা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইরান মুখোমুখি আলোচনায় বসতে রাজি না হওয়ার খবরে শনিবার মার্কিন প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন ট্রাম্প। সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করে তেহরান ফিরে যান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক তৎপরতা কয়েকগুণ বাড়িয়েছে ইরান। এর অংশ হিসেবে এক দেশ থেকে আরেক দেশ চষে বেড়াচ্ছেন আব্বাস আরাঘচি। রোববার ওমান সফরে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর ফের সংক্ষিপ্ত সফরে পাকিস্তান গেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য ইসলামাবাদের কাছে ফের কিছু প্রস্তাব বা দাবি তুলে ধরেছেন ইরানের এই কূটনীতিক। এরমধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়, ভবিষ্যতে আর কখনো আগ্রাসন না চালানোর গ্যারান্টি এবং অবরোধ তুলে নেয়া। তবে এই সফরে হওয়া আলোচনায় পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে তেহরান।
আরও পড়ুন:
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টার জন্য পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইরান। এবার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদারে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে সেন্ট পিটার্সবার্গে গেছেন আব্বাস আরাঘচি। জাতীয় স্বার্থে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া সফরকে কূটনৈতিক জিহাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। পুতিন-আরাঘচির মধ্যে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যৌথ কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মার্কিন মিত্র কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রোববার ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া যুদ্ধ শেষ করতে ইউরোপের গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আহ্বানও জানিয়েছে তেহরান। একইদিন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েলের সঙ্গে ফোনালাপে এই আহ্বান জানান আব্বাস আরাঘচি।
এ অবস্থায় ইরান আলোচনা চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারে অথবা তাদের কাছে ফোন করতে পারে বলে বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, আলোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিউক্লিয়াস ডাস্ট নেবে বলে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি এবং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক চাপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের ওপর প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণসহ সব তাস যুক্তরাষ্ট্রে হতেই রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও স্পিকার বাঘের গালিবাফ। তিনি জানান, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই নয়, ইরানেরও প্রভাব খাটানো অনেক পথ রয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন অবরোধ ও ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে ধুঁকছে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজার। ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছাড়িয়েছে ১০৭ ডলার।





