আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি বিশ্ব: আইইএ প্রধান

আইইএ-এর প্রধান ফাতিহ বিরোল
আইইএ-এর প্রধান ফাতিহ বিরোল | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। আজ (মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল) ফ্রান্স ইন্টার রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল এই সতর্কবার্তা দেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফাতিহ বিরল বলেন, ‘এটি আসলেই আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট। একদিকে রাশিয়ার গ্যাস সংকট এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই পেট্রোল সংকট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আইইএ প্রধান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে যে পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা ও বৈশ্বিক প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। তারা শুধু চীন, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের মতো ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের হাতেগোনা কিছু জাহাজকে যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। আইইএ-র মতে, এই অচলাবস্থা বিশ্ব তেলের বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

জ্বালানি রেশনিং ও মন্দার আশঙ্কা
এই সংকটের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং অনেক দেশ ইতিমধ্যে জ্বালানি রেশনিং বা তেল-বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইইএ জানিয়েছে, গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার পর নৌ-অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে, যা বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে এই অস্থিরতা কাটার কোনো লক্ষণ নেই।

এএম