তেলনির্ভরতা কমাতে চেয়েছিলেন এ ছয় গবেষক; সব প্রজেক্টই কেন ব্যর্থ হয়?

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত
2

রাতের অন্ধকার। গ্যারেজের ভেতর একা বসে আছেন একজন উদ্ভাবক। তার হাতে একটি যন্ত্র—যে যন্ত্র বিশ্ব বদলে দিতে পারে। আর মাত্র একটু সময়, একটু পরীক্ষা। তাহলেই হয়তো পেট্রোল-ডিজেলের যুগের (Gasoline and Diesel Era) অবসান ঘটবে। কিন্তু পরের দিন সকালে তাকে পাওয়া গেল মৃত। গলায় দড়ি। আত্মহত্যা (Suicide) বলে দাবি পুলিশের। তবে প্রতিবেশীরা জানেন, ওই উদ্ভাবক আত্মহত্যার পাত্র নন। আরেকজনের গায়ে গুলি। আরেকজনের গবেষণাগারে আগুন। আরেকজনের পেটেন্টের (Patent) মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে বাজারে না আসতেই। এসব কি শুধুই কাকতালীয়? নাকি পর্দার আড়ালে কোনো নীরব ঘাতক কাজ করছে?

আমরা যে জ্বালানি সংকটে (Fuel Crisis) পুড়ছি, হরমুজ প্রণালির (Strait of Hormuz) উত্তেজনায় যার প্রান্ত ছোঁয়া গেছে, সেই সংকটের জন্ম কিন্তু আজকের নয়। ইতিহাসজুড়ে এমন বহু বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক (Scientists and Inventors) এসেছেন, যারা দাবি করেছেন, তারা ‘প্রায় বিনামূল্যের’ শক্তির উৎস (Free Energy Sources) আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু তাদের প্রত্যেকেই নিঃশব্দে ইতিহাসের গর্ভে হারিয়ে গেছেন। কেউ মারা গেছেন রহস্যজনকভাবে (Mysterious Death)। কেউ ভেঙে পড়েছেন মানসিকভাবে। আর কারও আবিষ্কার কিনে নিয়েছে এক অদৃশ্য শক্তি—যাদের লাভের উৎস জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels)।

১. টাওয়ার যে স্বপ্ন দেখেছিল—নিকোলা টেসলার (Nikola Tesla) বিষাদকাব্য

নিকোলা টেসলা |ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্ন ছিল বিনামূল্যের বিদ্যুৎ (Dream of Free Energy)

বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ। পৃথিবী তখন নবজাত বিদ্যুতের (Electricity) রোমাঞ্চে মাতোয়ারা। আর এক কোণে দাঁড়িয়ে নিকোলা টেসলা স্বপ্ন দেখছেন এক অসম্ভবের—তারের প্রয়োজন নেই, মিটার বসানোর প্রয়োজন নেই, বিল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি চাইছেন পুরো বিশ্বকে বিদ্যুৎ দিন বিনামূল্যে।

লং আইল্যান্ডের শোরহামে গড়ে তোলেন ১৮৭ ফুট উঁচু ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার (Wardenclyffe Tower)। কল্পনা করছেন, পৃথিবী ও আয়োনোস্ফিয়ারের (Ionosphere) মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত শক্তি টেনে এনে ঘরে ঘরে জ্বালানো হবে আলো।

রাতারাতি বদলে যাওয়া বিনিয়োগকারী (Investors Change Overnight)

টেসলার স্বপ্নের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জেপি মরগান (J.P. Morgan)—ওয়াল স্ট্রিটের রাজা, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিনিয়োগকারীদের একজন। কিন্তু একদিন হঠাৎ সব থমকে গেল। জনশ্রুতি আছে, জেপি মরগান যখন বুঝতে পারলেন টেসলার যন্ত্র সফল হলে আর কেউ বিদ্যুতের জন্য পয়সা দেবে না, তখন তিনি প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ালেন। শুধু তাই নয়, তিনি বাকি বিনিয়োগকারীদেরও টেসলাকে সমর্থন করতে নিষেধ করলেন।

১৯১৭ সালে টাওয়ারটি ভেঙে ফেলা হয়। টেসলা দেনায় ডুবে মারা যান। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—টাওয়ারটি কি সত্যিই ব্যর্থ হয়েছিল, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছিল?

কিছু ইতিহাসবিদ বলেন, টেসলার প্রযুক্তি কার্যকর ছিল না। কিন্তু ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের (Conspiracy Theorists) দাবি, এটি ছিল ‘ফ্রি এনার্জি’ দমনের প্রথম অধ্যায়।

‘ফ্রি এনার্জি’ কী? (What is Free Energy?)

‘ফ্রি এনার্জি’ একটি ভোক্তা তত্ত্ব—যেখানে ধারণা করা হয়, প্রকৃতিতে এমন শক্তি আছে যা কেউ কখনো আবিষ্কার করলেও সেটি চেপে দেওয়া হয়। কারণ ‘তেলের টাকা’ যেখানে লাভের স্বপ্ন দেখে, সেখানে বিনামূল্যের শক্তি মানে ব্যবসা বন্ধ। আজকের বিশ্বে যেখানে ৮৫ শতাংশ শক্তি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) থেকে আসে, সেখানে ‘ফ্রি এনার্জি’ ব্যবসার জগতে এক ভয়ংকর ভূতের নাম।

২. ১০০ মাইল প্রতি গ্যালন—যে যন্ত্র কখনো আসেনি

চার্লস নেলসন পোগে |ছবি: সংগৃহীত

চার্লস নেলসন পোগের অদ্ভুত আবিষ্কার (The Mysterious Invention of Charles Nelson Pogue)

১৯৩০-এর দশক। কানাডার এক সাধারণ গ্যারেজে বসে স্বশিক্ষিত প্রকৌশলী (Engineer) চার্লস নেলসন পোগ দাবি করলেন, তিনি এমন এক কার্বুরেটর (Carburetor) বানিয়েছেন যা দিয়ে প্রতি গ্যালন পেট্রোলে (Per Gallon Petrol) গাড়ি চলে প্রায় ২০০ মাইল। স্বাভাবিক গাড়ি তখন ১৫-২০ মাইল চালাত। পোগের দাবি যদি সত্যি হতো, তাহলে তেলের চাহিদা (Fuel Demand) কমে যেত প্রায় ৯০ শতাংশ।

পেটেন্ট কেনার পর নিশ্চুপ (Silence After Patent Purchase)

পোগ তার আবিষ্কারের পেটেন্ট (Patent) নিলেন। কিন্তু খুব শিগগিরই খবর এল—বড় একটি তেল কোম্পানি সেই পেটেন্ট কিনে নিয়েছে। এবং তারপর? চিরনীরবতা। পোগের কার্বুরেটর আর কখনো বাজারে আসেনি। পোগ নিজেও পরে বলেছিলেন, তাকে চুপ থাকার বিনিময়ে একটি সুন্দর অঙ্কের অর্থ (Huge Amount of Money) দেওয়া হয়েছিল।

পদার্থবিজ্ঞানীরা (Physicists) বলেন, এই দাবি অসম্ভব—তাপগতিবিদ্যার (Thermodynamics) প্রথম সূত্র মানতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, তবে কেন এত বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া হলো একটি ‘অসম্ভব’ যন্ত্র?

৩. টম ওগল: ১০০ মাইল প্রতি গ্যালনের রহস্যময় উদ্ভাবক

টম ওগল |ছবি: সংগৃহীত

এক অবিশ্বাস্য সফর (An Unbelievable Journey)

১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এল পাসো (El Paso, Texas) শহর থেকে যাত্রা শুরু করল এক অদ্ভুত গাড়ি। গাড়িটির নাম ‘ওগলমোবাইল’ (Oglemobile)। চালক টম ওগল (Tom Ogle), বয়স মাত্র ২৪ বছর। তার ট্যাংকে মাত্র দুই গ্যালন পেট্রোল। গন্তব্য ডেমিং, নিউ মেক্সিকো। এল পাসো টাইমসের এক সাংবাদিক সেখানে বসে আছেন ফলাফলের অপেক্ষায়।

ফিরে এল টম ওগল। তিনি দুই গ্যালন পেট্রোলে (Two Gallons of Petrol) পাড়ি দিয়েছেন ২০৫ মাইল! অর্থাৎ প্রতি গ্যালনে ১০০ মাইলের বেশি মাইলেজ (Mileage)। তার আগের গড় ছিল মাত্র ১২ মাইল প্রতি গ্যালনে।

কীভাবে সম্ভব হল? টম ওগল আবিষ্কার করেছিলেন এক বাষ্পীভূত জ্বালানি পদ্ধতি (Fuel Vaporization System)। তিনি গাড়ি থেকে কার্বুরেটর (Carburetor) সরিয়ে ফেলেন। জ্বালানি ট্যাংকের পেট্রোলকে বাষ্পে রূপান্তরিত করে সরাসরি ইঞ্জিনে প্রেরণ করা হতো। তিনি দাবি করেন, শহরে গাড়ি চালালেও মাইলেজ দাঁড়াবে ১৬০ মাইলের কাছাকাছি।

রহস্য ঘনিয়ে আসে (The Mystery Deepens)

ওগল বলছিলেন, আবিষ্কারটি তিনি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে চান। কোম্পানিগুলো ছুটে আসে—পেটেন্ট (Patent) কিনতে চায়। কিন্তু ওগল রাজি হননি। তিনি চাইতেন যন্ত্রটি সবার কাছে পৌঁছে যাক।

কয়েক বছরের মধ্যেই টম ওগলের ভাগ্য বদলে গেল। ১৯৮১ সালের ১৯ আগস্ট, মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান। কারণ? নাকি অন্য কিছু?

গল্পটা সেখানেই শেষ নয়। টম ওগলের রহস্য নিয়ে তার মৃত্যুর পর থেকেই নানা জল্পনা ছড়ায়। অনেকেই মনে করেন, এই যন্ত্র বাজারে আসলে তেল শিল্পের (Oil Industry) ব্যাপক ক্ষতি হতো, আর সেই কারণেই নাকি অকালে ঝরে যায় এই তরুণ উদ্ভাবকের ফুল।

৪. পানি–চালিত ইঞ্জিন ও রহস্যময় মৃত্যু

স্ট্যানলি মেয়ার |ছবি: সংগৃহীত

স্ট্যানলি মেয়ারের ‘পানি–গাড়ি’ (Stanley Meyer's Water-Powered Car)

১৯৯০-এর দশক। অ্যারিজোনার এক গ্যারেজে বসে স্ট্যানলি মেয়ার (Stanley Meyer) দাবি করলেন, তিনি পানি ভাঙতে পারেন—হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে (Hydrogen and Oxygen)। আর সেই হাইড্রোজেন দিয়ে চালানো যায় গাড়ি। তিনি একটি ডিউন বগিকে (Dune Buggy) রেট্রোফিট করে সবার সামনে দেখালেন—গাড়ি চলছে, আর নিষ্কাশনে বেরোচ্ছে শুধু পানি। সাংবাদিকরা ছুটে এলেন। টেলিভিশনে প্রচার হলো। তেল কোম্পানিগুলো (Oil Companies) আতঙ্কিত।

শেষ কথা: ‘ওরা আমাকে বিষ দিয়েছে’ (Last Words: 'They Poisoned Me')

১৯৯৮ সালের ২১ মার্চ। এক রেস্টুরেন্টে খেতে বসেন মেয়ার। খাওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। পরদিন সকালে তাকে মৃত পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে (Autopsy) বলা হলো, উচ্চ রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। কিন্তু মেয়ারের ভাই স্টিফেন পরে জানান, তার শেষ কথা ছিল: ‘ওরা আমাকে বিষ দিয়েছে’ (They poisoned me)। কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মেয়ারের মৃত্যু রহস্যই রইলো।

তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটি নিলামে তোলা হলেও কেউ কিনতে আসেনি। হয়তো ‘ওরা’ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, এটি আর কখনো কাজ করবে না।

৫. ‘কসমিক রশ্মি’ ও গুলিবর্ষণ

থমাস হেনরি মোরে |ছবি: সংগৃহীত

থমাস হেনরি মোরে (Thomas Henry Moray)

একজন মরমন প্রকৌশলী (Mormon Engineer)। দাবি করতেন, তিনি ‘কসমিক রশ্মি’ (Cosmic Rays) থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করতে পারেন। তার তৈরি একটি ছোট যন্ত্র ৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ দিত—একটি পুরো বাড়ি জ্বালানোর মতো। তিনি দাবি করেন, সূর্যের ‘রেডিয়েন্ট এনার্জি’ (Radiant Energy) ব্যবহার করাই তার পদ্ধতি।

বারবার হামলা, অদৃশ্য হুমকি (Repeated Attacks and Invisible Threats)

মোরে পরে সাক্ষাৎকারে জানান, তার গ্যারেজে বারবার ডাকাতি হয়েছে। শুধু টাকা নেওয়া হয়নি, বরং গুরুত্বপূর্ণ নথি আর যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। একবার তার ওপর গুলি চালানো হয় (Assassination Attempt)। তিনি বেঁচে গেলেও পরে মানসিক ভাঙন নিয়ে কথা বলেন। ১৯৭০-এর দশকে তার পেটেন্টের (Patent) মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তিনি বাণিজ্যিকভাবে কিছু করতে পারেননি।

তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, তার যন্ত্র সত্যিই কাজ করলে তা আজও কেউ তৈরি করতে পারত। কিন্তু পারেনি। তাহলে কি আসলে যন্ত্রটি কাজ করতো না? নাকি সঠিক সময়ে সঠিক পৃষ্ঠপোষক পাননি মোরে? কে জানে।

৬. কোল্ড ফিউশন ও ম্যাসাচুসেটসের নীরবতা

ইউজিন ম্যালোভ |ছবি: সংগৃহীত

পন্স ও ফ্লেইসম্যানের চাঞ্চল্য (The Excitement of Pons and Fleischmann)

১৯৮৯ সালের ২৩ মার্চ। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা হাঁ করে খবরটা পড়লেন—উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Utah) দুই বিজ্ঞানী ঘরের তাপমাত্রায় ‘ফিউশন’ (Fusion) ঘটিয়েছেন। অর্থাৎ তারা সূর্যের মতো প্রতিক্রিয়া ঘটিয়েছেন, কিন্তু কোনো বিকিরণ ছাড়াই। সস্তা, নিরাপদ ও পরিষ্কার শক্তির (Clean Energy) দুয়ার খুলে গেছে।

ইউজিন ম্যালোভ—যে খুব বেশি জানতেন (Eugene Mallove—The Man Who Knew Too Much)

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (MIT) বিজ্ঞান সাংবাদিক ইউজিন ম্যালোভ (Eugene Mallove) ঘটনাস্থলে যান। তিনি পরে দাবি করেন, এমআইটি ইচ্ছাকৃতভাবে পন্স-ফ্লেইসম্যানের সফল পরীক্ষার তথ্য গোপন (Data Suppression) করেছে। কারণ এই প্রযুক্তি প্রচলিত বিদ্যুৎ শিল্পের জন্য হুমকি। তিনি একটি বইও লেখেন ‘ফায়ার ফ্রম আইস’ (Fire from Ice)।

২০০৪ সালের এক সন্ধ্যায়। বাড়ির কাছে গাড়ি থেকে নামছেন ম্যালোভ। তখনই এক ব্যক্তি এসে তার মাথায় গুলি করে (Assassination)। পুলিশ ঘটনাটিকে ডাকাতি (Robbery) হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু ম্যালোভের কাছে কিছুই চুরি হয়নি। তার মৃত্যু আরও একটি অমীমাংসিত রহস্য হয়ে থাকে।

৭. স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের (Standard Oil) অদৃশ্য রাজত্ব

যে প্রতিষ্ঠান ‘আবিষ্কার’ করেনি, কেবল ‘কিনেছে’

১৯১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট স্ট্যান্ডার্ড অয়েলকে একচেটিয়া কারবার (Monopoly) হিসেবে ভেঙে দেয়। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকার প্রায় পুরো তেল শিল্প (Oil Industry) নিয়ন্ত্রণ করতো। ইতিহাসবিদদের মতে, স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কখনো বড় কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কার করেনি। বরং তারা আবিষ্কার কিনে নিত—বিশেষ করে যেগুলো তেলের চাহিদা (Oil Demand) কমিয়ে দিতে পারে। তাদের নীতি ছিল ‘ক্যাপচার অ্যান্ড কিল’ (Capture and Kill)—ধরো, কিনো, আর চিরকালের মতো চেপে রাখো।

এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War II) সময় জার্মান রসায়নবিদরা সিনথেটিক তেলের (Synthetic Oil) প্রযুক্তি আবিষ্কার করলে, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা তা বাজেয়াপ্ত করে এবং প্রকাশ করেনি।

‘বিগ অয়েল’ এখনো অদৃশ্য (Big Oil is Still Invisible)

২০২৬ সালের মিশিগানের একটি মামলায় অভিযোগ ওঠে, ‘বিগ অয়েল’ (Big Oil) আজও এক কার্টেলের (Cartel) মতো কাজ করে। তারা ‘ক্যাপচার-অ্যান্ড-কিল ট্যাকটিক্স’ ব্যবহার করে পুনর্নবায়নযোগ্য জ্বালানির (Renewable Energy) পেটেন্ট কিনে দমন করে। ইলেকট্রিক গাড়ির (Electric Car) গবেষণায় অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এমনকি নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

রহস্যের জালে আটকা ভবিষ্যৎ (Future Trapped in Mystery)

স্ট্যানলি মেয়ারের (Stanley Meyer) শেষ কথা ‘ওরা আমাকে বিষ দিয়েছে’ কি কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের (Conspiracy Theory) অংশ, নাকি শতবর্ষের সত্য? টেসলার টাওয়ার কি সত্যিই কাজ করত? পোগের কার্বুরেটর কি আসলে ১০০ মাইল পার করত? টম ওগল কেন অকালে ঝরে গেলেন? আর ম্যালোভ কেন মারা গেলেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সম্ভবত কখনো জানা যাবে না। তেল কোম্পানিগুলো আজও ব্যবসা করে। তাদের বার্ষিক আয় হাজার হাজার কোটি ডলার। তারা চায় না বাজারে আসুক সস্তা বিকল্প। আর যারা বিকল্প আনার চেষ্টা করেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করে অন্ধকার।

তবে আমাদের সময় ফুরিয়ে আসছে। হরমুজের জ্বালানি অবরোধ (Hormuz Fuel Blockade), পরিবেশ দূষণ (Environmental Pollution), মূল্যস্ফীতি (Inflation)—এসব আমাদের এক বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। স্বপ্ন দেখার সময় নেই, কিন্তু প্রয়োজনের সময় এসেছে। প্রশ্ন হলো—আমরা কি সত্যি চাই বিকল্প? নাকি আমরা নিজেরাও সেই ‘অদৃশ্য শক্তি’র চক্রের অংশ?

রহস্য উদঘাটিত হোক আর নাই হোক, সূর্যের আলো আর বাতাস এখনো বিনামূল্যে। হয়তো সেখান থেকেই আমাদের স্বপ্নের শুরু হওয়া উচিত।

এএম