প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশে ৬ হাজার সেনা এবং যুদ্ধজাহাজসহ বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপে আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ নৌ ও মেরিন সদস্য এই মাসের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। সঙ্গে থাকবে ১১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট। এই নতুন বাহিনী পেন্টাগনের আগে থেকেই মোতায়েন থাকা অনুমানিক ৫০ হাজার সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে। ট্রাম্প বললেন— ‘যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে’
গতকাল (বুধবার, ১৫ এপ্রিল) ফক্স বিজনেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা শিগগিরই শেষ হতে পারে। তারা যদি বুদ্ধিমান হয়, তবে এটা শিগগিরই শেষ হবে।’
একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত মিটে গেলে জ্বালানির দাম ‘ব্যাপকভাবে’ কমে আসবে। গত রোববার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ২১ ঘণ্টার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানি বন্দরে অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী সমুদ্রপথে ইরানের আমদানি-রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের অর্থনীতির আনুমানিক ৯০ শতাংশই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।’
আরও পড়ুন:
মার্কিন নৌবাহিনী এখন হরমুজ প্রণালি পার হওয়া যেকোনো ইরানি জাহাজ আটকে দিতে এবং প্রয়োজনে সরাসরি উঠে পড়ার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী এই অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘পূর্বসংকেত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান আলি আবদুল্লাহি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অবরোধ অব্যাহত রাখে তবে তা ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য ‘অনিরাপদ পরিবেশ’ তৈরি করবে এবং এটি ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পূর্বসংকেত’ হবে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোনো আমদানি-রপ্তানি চলতে দেবে না।’
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান নিজের তেল ও পণ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে পাঠালেও অন্য দেশের, বিশেষ করে ‘অবন্ধুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মাঠের উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।





