নেই পর্যাপ্ত খাবার, রয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। ট্রাম্পের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার চাপে হরহামেশাই ঘটছে জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও। এতে মাঝে-মধ্যেই ভূতুড়ে নগরীতে রূপ নেয় উত্তর আমেরিকার দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা।
জানুয়ারিতে মাদুরোকে স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রে তুলে আনার পর কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়াও, কিউবায় তেল বিক্রি করলে অন্যান্য দেশগুলোকে শাস্তির আওতায় আনার হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প। এতে প্রায় ৩ মাস দেশটিতে কার্যত বন্ধ ছিল তেল আমদানি। তবে সম্প্রতি কিউবায় রুশ তেলবাহী ট্যাংকার প্রবেশ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। জ্বালানি সংকটে মুখ ধুবড়ে পড়ছে দেশটির অর্থনীতির সব খাত।
দেশটির পর্যটনের হাব হিসেবে পরিচিত রাজধানী হাভানা। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যটকশূন্য নগরীটির দর্শনীয় স্থানগুলো। ধস নেমেছে রাস্তার ধারে থাকা রেস্টুরেন্টগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও। ওয়েটার মেন্যু লিস্ট নিয়ে বসে থাকলেও, আসছে না কোনো ক্রেতা। বাধ্য হয়ে কারবার গুটিয়ে নিয়েছে অনেক উদ্যোক্তা।
আরও পড়ুন:
ক্ষতিগ্রস্ত রেস্টুরেন্ট মালিক ইউডেসি মেন্ডোজা বলেন, একসময় এখানে প্রচুর বিদেশি পর্যটক আসত। মানুষের লাইন লেগে যেতে। তবে ফুয়েল সংকটের কারণে ফ্লাইট চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যা নগরীকে পর্যটকশূণ্য করেছে।
কিউবার একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হাভানা সেন্ট্রাল পার্ক। আগে পার্কটির সামনে ভাড়ায় চালিত ছাদখোলা গাড়ির ভিড় লেগে থাকত। পর্যটকদের অচেনা শহর ঘুরিয়ে আনত যানগুলোর চালকেরা। তবে যাত্রী না থাকায় কপালে চিন্তার ভাঁজ চালকদের।
চালকরা জানান, আগে দিনে ৩-৪ টা ট্রিপ পেতাম। এখন সারাদিন মিলিয়েও একটা ট্রিপ পাই না। পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ।
অ্যাভিয়েশন ফুয়েল সংকটের কারণে কিউবায় বেশ কিছুদিন ধরেই ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। বাধ্য হয়ে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করেছে অনেক কোম্পানি। এছাড়াও, অর্থনৈতিক সংকটে ডুবতে থাকা দেশটি ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে বেশ কিছু দেশ।
কিউবার জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর বলছে, ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে অন্তত ৭০ হাজার পর্যটক এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম।





