ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আজ (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল) ভোরে একটি পাখার অংশ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করে। প্রথমে দাবি করা হয়, মধ্য ইরানের ওপর একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে মার্কিন এফ-৩৫ বিমানকে লক্ষ্য করা হয়েছে এবং পাইলট সম্ভবত নিহত হয়েছেন।
তবে বিমান চলাচলবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানান, ছবিতে যে ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে, তা যুক্তরাজ্যের আরএএফ লেকেনহিথে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর ৪৯৪তম স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের। তবে ছবিগুলো কবে এবং কোথায় তোলা হয়েছে, তা শুরুতে নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেন, একটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়েছে এবং ক্রুকে খুঁজে বের করতে পেন্টাগন তৎপর চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
পরে ইরানে ধারণ করা ফুটেজে একটি মার্কিন সি-১৩০ হারকিউলিস ও এইচএইচ-৬০ পেভহক হেলিকপ্টার নিচু দিয়ে উড়তে দেখা যায়, একপর্যায়ে তারা পাশাপাশি জ্বালানি নিতেও দেখা যায়। এতে নতুন করে ধারণা তৈরি হয়, বিমানটির ক্রুরা হয়তো ইজেক্ট করে বেঁচে গেছেন।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিমান বিশেষজ্ঞ জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, ‘বিশেষায়িত এসব হেলিকপ্টারের ব্যবহার থেকে বোঝা যাচ্ছে, এফ-১৫ই থেকে দুই বিমানকর্মীকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করতে যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।’
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাবি করা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট মরুভূমির ভেতরে একটি ইজেক্টর সিটের ছবি পোস্ট করে, যা এফ-১৫ই-তে ব্যবহৃত এসিইএস ২ ধরনের সঙ্গে মিলছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিমান বিশেষজ্ঞ জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, ‘ছবিটি যদি সত্য হয়, তাহলে অন্তত দুই বিমানকর্মীর একজন নিরাপদে ইজেক্ট করেছেন বলে বোঝা যায়।’
এক ইরানি টিভি চ্যানেলের উপস্থাপক ‘শত্রুপক্ষের পাইলট’কে পুলিশের হাতে তুলে দিতে স্থানীয়দের আহ্বান জানান এবং যারা তা করবে, তাদের পুরস্কার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, জেটটির পাইলটকে আটক করা হয়েছে। তবে তারা এখনও ভুলভাবে এটিকে এফ-৩৫ হিসেবে বর্ণনা করে। এটি তেহরানের প্রাথমিক দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়েছিল পাইলট সম্ভবত নিহত হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, যা ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছে, হরমুজ প্রণালিতে কেশম দ্বীপের ওপর আরেকটি এফ-৩৫ ভূপাতিত হওয়ার ইরানি দাবি অস্বীকার করেছিল। তখন তারা বলেছিল, ‘সব মার্কিন যুদ্ধবিমানের হিসাব ঠিক আছে।’
এখন পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহের এই সংঘাতে ইরানের আকাশে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান হারায়নি। তবে ১ মার্চ কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে ভুলবশত তিনটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়েছিল।
আরেকটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল বলে জানানো হয়, যখন সেটি ভূমি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।





