২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং তাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার শিবির উপকৃত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই রবার্ট মুলার। এ কারণেই ট্রাম্পের সঙ্গে মুলারের দীর্ঘদিনের বিরোধ গড়ে ওঠে।
ট্রাম্প এর আগেও মৃত্যুর পর প্রতিপক্ষদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তবে গতকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) এই মন্তব্য মুলারকে ঘিরে তার বহু বছরের ক্ষোভেরই প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিজের প্রথম মেয়াদে মুলারের তদন্তকে ট্রাম্প বারবার “উইচ হান্ট” বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযানে বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
মুলারের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সিবিএস নিউজ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া এক বিবৃতিতে মুলারের পরিবার জানায়, গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা জানাচ্ছি, গত (শুক্রবার, ২০ মার্চ) রাতে রবার্ট মুলার মারা গেছেন। একই সঙ্গে তারা পরিবারের এসময়ে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানায়।
কেন ট্রাম্পের এত ক্ষোভ
বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে মুলারের তদন্ত ২০১৬ সালের ট্রাম্প প্রচার শিবিরকে গভীরভাবে পর্যালোচনার আওতায় আনে। এই তদন্ত ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের বড় অংশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলেছিল এবং তাকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলে।
এ কারণেই ট্রাম্প বহু বছর ধরে মুলারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি মনে করতেন, মুলারের নেতৃত্বে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত চালানো হয়েছে। মৃত্যুর পরও সেই বিরোধিতার প্রতিফলন দেখা গেছে ট্রাম্পের বক্তব্যে।
আরও পড়ুন:
শ্রদ্ধা জানান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ও সহকর্মীরা
মুলারের সাবেক সহকর্মী ও কর্মস্থলের লোকজন তাকে দীর্ঘদিনের জনসেবক হিসেবে স্মরণ করেছেন। এফবিআই পরিচালক হিসেবে যেসব প্রেসিডেন্টের অধীনে তিনি কাজ করেছেন—জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা—দুজনেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
মুলারকে এফবিআই পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া বুশ বলেন, ‘তার মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।’
বুশ বলেন, ‘চাকরির মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে, এফবিআইয়ের ষষ্ঠ পরিচালক হিসেবে রবার্ট মুলার ১১ সেপ্টেম্বরের পর স্বদেশ রক্ষায় সংস্থাটির দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করেন। তিনি সংস্থাটিকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আরেকটি সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে সহায়তা করেছেন।’
ওবামা মুলারকে এফবিআইয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পরিচালক বলে উল্লেখ করেন। তিনি আইনশাসনের প্রতি তার অবিরাম অঙ্গীকার এবং মার্কিন মৌলিক মূল্যবোধের প্রতি অটল বিশ্বাস-এর প্রশংসা করেন।
মুলারের উত্তরসূরি এবং ট্রাম্পের হাতে বরখাস্ত হওয়া সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি বলেন, ‘আজ এক মহান আমেরিকানের মৃত্যু হয়েছে, যার কাছ থেকে শেখার এবং যার পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ আমার হয়েছিল।’
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এফবিআই নেতৃত্বে
১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন মুলার। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার পর তিনি মেরিন বাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনামে মোতায়েন হন।
লেফটেন্যান্ট হিসেবে তিনি একটি প্লাটুনের নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধে তিনি দুইবার আহত হন এবং বীরত্বের জন্য ব্রোঞ্জ স্টার ও পার্পল হার্টসহ একাধিক সম্মাননা পান।
যুদ্ধ থেকে ফিরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ায় আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
২০০১ সালের আগস্টে মার্কিন সিনেট সর্বসম্মতভাবে তাকে এফবিআই পরিচালক হিসেবে অনুমোদন দেয়। তিনি এক দশকের বেশি সময় এই সংস্থার নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে অবসর নেন।





