Recent event

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, ট্রাম্পের অভিনন্দন

সানায়ে তাকাইচি
সানায়ে তাকাইচি | ছবি: সংগৃহীত
0

৪৬৫টির মধ্যে ৩১৬টিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয় পেলো জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র ২৩ বছর বয়সে জাপানের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তাকাইচি। যাকে বলা হয় জাপানের আয়রন লেডি।

তাইওয়ান ইস্যুতে শক্ত অবস্থানের জন্য তাকে উপাধি দেয়া হয় চীনা বাজপাখি। রাজনৈতিক পরিবারের বাইরে থেকেও দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন ৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি। অনেকটা দুর্বল অবস্থান থেকেই দেশকে পরিচালনা করতে হবে তাকে।

ছিলেন টিভি উপস্থাপিকা ও হেভি মেটাল ব্যান্ডের ড্রামার। সময়ের পরিক্রমায় রাজনীতিতে পথচলা।

১৯৬১ সালে জাপানের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ নারা অঞ্চলে জন্ম নেয়া তাকাইচির বেড়ে রাজনৈতিক জগতের বাইরে। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক করেছেন কোবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাবা ছিলেন চাকরিজীবী মা পুলিশ কর্মকর্তা।

মাত্র ২৩ বছর বয়সে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য হিসেবে জাপানের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সানায়ে তাকাইচি। ১৯৯২ সালে প্রথম সংসদীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। তবে লক্ষ্যে অটল থাকেন তিনি। এরপর থেকে ১০ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, হেরেছেন মাত্র একবার।

আরও পড়ুন:

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, শিল্প ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গেল বছর শিগেরু ইশিবার পদত্যাগের পর দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান সানায়ে তাকাইচি। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের শিষ্য হিসেবেই বেশি পরিচিত তিনি। মূলত উচ্চ ব্যয় ও ঋণ নিয়ে শিনজো অ্যাবেরের অর্থনৈতিক নীতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রক্ষণশীল মনোভাবের জন্য তাকাইচিকে বলা হয় জাপানের আয়রন লেডি। তিনি প্রয়াত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। সমকামী বিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং অভিবাসন নীতিতে বেশ কঠোর। নারীর ক্ষমতায়নে তার লড়াই দীর্ঘদিনের।

তাইওয়ান প্রণালীতে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর প্রতি তার সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। এলডিপির সদস্য হিসেবে বেশ কয়েকবার তাইওয়ান সফরও করেছেন তিনি। যা চীনের জন্য ছিল উদ্বেগের। এ কারণে জাপানে তাকে দেয়া হয় 'চীনা বাজপাখি' উপাধি।

বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচির জয়ে ডানপন্থির পরিবর্তে রক্ষণশীল শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে জাপান। বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে তাকাইচিকে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব এবং চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারেও তাকাইচিকে বেগ পেতে হবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

ইএ