Recent event

থাইল্যান্ডে নির্বাচন: প্রতিযোগিতার আভাস মিলছে ৩ দলের মধ্যে

থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম
থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম | ছবি: সংগৃহীত
0

দুই বছরে তিন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পরও নতুন সরকার গঠনে ভোট দিচ্ছেন থাইল্যান্ডের জনগণ। একইসঙ্গে সেনা প্রণীত সংবিধান সংশোধন পরিবর্তন করা হবে কিনা তার ওপর গণভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। স্থানীয় সময় আজ (রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলেছে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ৫৭টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে মাত্র তিনটি দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার আভাস মিলছে।

কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত বিরোধ, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই বছরে ৩ জন প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেয়েছে থাইল্যান্ডের জনগণ। এবার ভুমজাইথাই পার্টির নেতা এবং তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আনুতিন চার্নভিরাকুলের অধীনে দেশটিতে হচ্ছে আগাম নির্বাচন। স্থানীয় সময় রোববার সকাল থেকে ৮টা থেকে ৫০০টি সংসদীয় আসনে চলে ভোটগ্রহণ।

একইসঙ্গে ২০১৭ সালে সামরিক শাসনের সময় প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না…এর ওপর হচ্ছে গণভোটও। থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, প্রাথমিক ভোটদান শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি'র ১ তারিখ। যেখানে ইতোমধ্যেই ভোট দিয়েছেন ২২ লাখের বেশি ভোটার। দেশটিতে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ৫৩ লাখ। আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৫৭টি রাজনৈতিক দল। সকালে নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধানরাও।

আরও পড়ুন:

৫০টির বেশি দল নির্বাচনে অংশ নিলেও জনমত জরিপে মাত্র তিনটি দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। দলগুলো হলো আনুতিন চার্নভিরাকুলের ভুমজাইথাই পার্টি, কারাবন্দী প্রভাবশালী রাজনৈতিক থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ফিউ থাই এবং তরুণ নেতা নাথাফং রুয়েংপানিয়াউতের দল পিপলস পার্টি। ফিউ থাই থেকে এবার প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদ-চানান ওং-সাওয়াত। ৯ এপ্রিলের মধ্যে ভোটের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে, এরপর ১৫ দিনের মধ্যে নতুন সংসদকে স্পিকার নির্বাচন এবং তারপর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

ভোটের আগে এক জরিপের তথ্য বলছে, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন জেতার সম্ভাবনা রয়েছে প্রগতিশীল পিপলস পার্টির। তবে থাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য একজন প্রার্থীকে অবশ্যই ২৫১ জন আইন প্রণেতার সমর্থন পেতে হবে। এক্ষেত্রে ভুমজাইথাই পার্টিসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দল হয়তো পিপলস পার্টির সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে ওঠতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনীর সমর্থন পেয়ে আনুতিনের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল দল ভুমজাইথাই পার্টি অনেকটাই এগিয়ে আছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের নির্বাচনে আনুতিন চার্নভিরাকুলের ভুমজাইথাই পার্টির সঙ্গে জোট করে প্রধানমন্ত্রী হন ফিউ থাই পার্টির নেতা স্রেথা থাভিসিন। নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে সাংবিধানিক আদালতের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর দলটির কারাবন্দী প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রধানমনন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা হন দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সীমান্ত সংঘাত চলাকালে কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে নিজ দেশের সেনাবাহিনী বিরোধী ফোনালাপ ফাঁস কাণ্ডে তিনিও ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীত্ব হারান। ফিউ থাই এর সঙ্গে জোটও ভেঙে দেয় ভুমজাইথাই পার্টি। দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হন ভুমজাইথাই পার্টির নেতা আনুতিন চার্নভিরাকুল।

ইএ